Monday, February 18, 2019

ধীরেন্দ্রনাথ চৌধুরী



কবিতা -
তোর .........

তোর     বাগানেতে অনেক ফুলের মেলা,
তোর     তাদের ওপর চরম অবহেলা  
তোর     মেজাজটা যে বড্ড উড়োনচন্ডী,
তোর     নিজের ঘরেই কাটিস সীতার গন্ডী
তোর    ঘরের ভেতর আরেকখানা ঘর,
তোর    মন বলেছে, ভীষন স্বার্থপর
তোর    বেরিয়ে যাওয়া, হঠাৎ নিশির ডাকে,
তোর     সত্বা আছে খামখেয়ালীর ফাঁকে
তোর     লেখায় আছে প্রেমের আবেদন,
তোর     অহংকারের শুধুই আস্ফালন
তোর     আকাশটা আজ ভীষন বেসামাল,
তোর     গানের ভেতর হঠাৎ কাটে তাল
তোর     ছন্নছাড়া জীবন-উৎসব,
তোর     ডালেতে নেই নতুন পল্লব
তোর     ঘরকন্নার কাজেতে খুব ফাঁকি,
তোর     মন্ডপেতে বাজায় না আর ঢাকি
তোর     দু চোখেতে, দু রকমের ভাষা,
তোর     শূণ্য খাতায় অশেষ প্রত্যাশা
তোর     আকাশটাকে ভীষন চেনা দায়,
তোর     নিষেধ মেনে কেবল রঙ পাল্টায়
তোর     অনাহুত আহ্বানে নেই ঢেউ,
তোর     নদীর পাড়ে আর আসেনা কেউ
তোর     দেব-দেউলে সামবেদের ওই গান,
তোর     মনের ভেতর সুলুক সন্ধান  
তোর     অফিস যাবার নেই কোনো আজ তাড়া,
তোর      অনাঘ্রাত ফুলেতে নেই সাড়া
তোর      জীবনবোধের অভাব উপস্থিত,
তোর      নড়ে গেছে চার দেয়ালের ভিত
তোর     ধারনা নেই, তোর কি অবস্থান,
তোর     কণ্ঠেতে নেই সুরেলা সেই গান,
তোর     এত কিছু "নেই"এর মাঝেও স্রোত,
তোর     সঙ্গে তবু জড়িয়েছি ওতপ্রোত
তোর     অভিষেকে না থাক নহবত,
তোর     ভাবনা যাই হোক, সৎ বা অসৎ,
তোর     আলোর রাতে না থাক রোশনাই,
তোর    অনিচ্ছাতেও তবু তোকেই চাই

ডঃ রমলা মুখার্জী



কবিতা -  
মন যখন ভ্যালেনটাইন

এই ছেলেটা প্রেমের কাজল পরিয়েছিস দু চোখে
তোর জন্যে লালের ছটা আমার সারা মুখে।
বুকের মাঝে তির্ তির্ তির্ পুলক সারা গায়
শরীর মনে পাগল আমি কেবল তোকে চায়।

এই ছেলেটা তুই যে আমার অতল সমুদ্দুর
উথাল পাথাল ঢেউএর দোলায় গুনগুনিয়ে সুর।
সেই সুরেতে ডানা মেলে মন-মাঝি উদাস
তুই ও আমি দুজনাতে তেঁতুল-পাতায় বাস।

এই ছেলেটা তোর সঙ্গে ছেড়েছি বাপের ঘর
হিঁদুর মেয়ের হয়েছিস তুই মুসলমানী বর।
যে যা বলে বলুক লোকে পরোয়া করি না
আয়লা সুনামী ভূমিকম্পেও ভয়ে ডরি না।

এই ছেলেটা দেখ না চেয়ে মা দিয়েছেন চিঠি
কত দিন পরে ছোঁব ওরে নিজের গাঁয়ের মাটি।
যে মাটিতে লালন-পালন সেকি ভোলা যায় 
দু বাবা-মাই বিবাদ ভুলে বলছে, চলে আয়।

এই ছেলেটা তোর সঙ্গে চল না গ্রামে যাই
আম-জাম-আতার বনে নতুন করে পাই।
দিঘির জলে পা ডুবিয়ে বসবো দুজনায়-
ভালবাসা এঁকে দেব প্রজাপতির ডানায়।

এই ছেলেটা তোর সঙ্গে নদী হব পার.......
লাগলে কাদা মুছে নেব, মানবো না তো হার
গাছের ডালে পা দুলিয়ে শুনবো পাখির কুজন
ছোট্ট একটা ডিঙির ওপর শুধু আমরা দুজন।

এই ছেলেটা ভয় নেই রে নতুন আলোর মুখ
সবাই মিলে মিশে গেছি সেই তো আসল সুখ।
কাঁটার বেড়া ডিঙিয়ে ভেঙে এগিয়ে অনেক যাই.......
হিন্দু আর মুসলমানে আলাদা কিছু তো নাই।

শঙ্কর ঘোষ



কবিতা –
কবিতা নাম প্রথম দেখায়

যেদিন শিমুল তলায়
প্রথম দেখি তোমায়,
সেদিন তোমার চাউনি
মনকে ভীষণ ভোলায়।

জুইফুল খোঁপায় পড়ে
দাঁড়িয়ে ছিলে তুমি,
কখন আমি এসে
দেব গালে চুমি।

তাকিয়ে ছিলে নয়ন মেলে
শরতের আকাশ পানে,
রাধা যেমন তাকিয়ে থাকত
কৃষ্ণের সাথে মেলার টানে।

তাঁদের প্রেমের কথা
জগতে সবাই জানে,
তোমার আমার ভালোবাসা
আজকে কেহ নাহি মানে।

তবুও তুমি আমি একসাথে
চলবো মোরা দুজনা,
ঝড় তুফান হাজার এলেও
কোনো দিনও ভুলব না।

কবিতা ভট্টাচার্য



কবিতা –
অবাধ্য প্রেম




মাঘের ঠান্ডা বাতাস
এত হিম, এত ঠান্ডা
তবুও বুকের ভেতর
কড়া নাড়ছে অন্য কেউ
ভালবাসা কখন যে
হৃৎপিন্ডে ঢুকে যায়

মিঠে কড়া রোদ সরস্বতী পুজো
রঙিন মুহূর্তগুলো কথা বলে
শীতের আলাপের মত
         হৃদয়ে চঞ্চলতা
সারাক্ষণ মৃদু নিঃশ্বাস
দুঠোঁটের ফাঁকে অবাধ্য প্রেম
এসে ডাক দিল -- বাসন্তী শাড়ীতে