Monday, August 15, 2022

আমাদের পদক্ষেপ পরিবার আয়োজিত বিশেষ ইভেন্ট "স্বাধীনতা"

 


বহু রক্তক্ষয়ের পর স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা ৷ ঘটেছিল দেশ বিভাজন ৷ রাজনীতির পাশাখেলায় তারপর থেকে আমরা অর্থাৎ আম জনতা নানাভাবে পিষ্ট হতে হতে হয়তো আজ 'স্বাদহীন'ভাবে স্বাধীন রয়েছি ৷ এই স্বাধীনতা কতখানি পরাধীনতা থেকে মুক্তি আর কতখানি ক্ষমতার হস্তান্তর তা নিয়েও রয়ে গেছে বিতর্ক ৷ তবু আজকের দিনটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ৷ তাই এই দিনটাকে উদযাপন করতে দেশজুড়ে গৃহীত হচ্ছে নানা কর্মসূচি ৷*

*আমাদের পদক্ষেপ পরিবারের পক্ষ থেকে আজকের দিনে পরিবারের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভকামনা ৷ পূর্বঘোঘণা অনুযায়ী আজ আমাদের এই পরিবারের যৌথ দেওয়ালে আয়োজিত হবে বিশেষ ইভেন্ট— "স্বাধীনতা" ৷ ইতিমধ্যে আপনাদের পাঠানো লেখাগুলো আমরা একে একে পোস্ট করব এখানে ৷ সেই ধারাবাহিকতা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ইভেন্ট চলাকালীন গ্রুপটি অনলি অ্যাডমিন করে রাখা হবে ৷ আপনাদের অনুরোধ, ধৈর্য রাখবেন ৷ সাথে থাকুন ৷*

----+++---

স্বাধীনতা- ৪৯
আমরা স্বাধীন
নবকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়

আমরা স্বাধীন আঁধার রাতে,চার দেওয়ালের মধ্যে থেকে।
ঘুমিয়ে সুখের স্বপন্ দেখি, দরজা জানলা বন্ধ রেখে।
দিনের আলোয় চোখ ঢেকে যায়, সানগ্লাসের কালো কাঁচে।
পাইনা দেখা যাদের জীবন, ফুটপাত আর গলির মাঝে।

আমরা স্বাধীন বেশ খেয়ালে, বৌ ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে।
যাত্রা নাটক থিয়েটারে, আয়েশ করি গোয়ায় গিয়ে।
চড়ছি দামী এ.সি গাড়ী, গরম শীতে আরাম করে।
হিমেল হাওয়ায় কাঁপছে যারা, থাকনা তাঁরা পথেই পড়ে।

আমরা স্বাধীন রান্নাশালে, চিংড়ি ইলিশ মাংস ভাতে।
দুধের পায়েশ আর পোলাও, টাটকা আসল ঘিয়ের সাথে।
পায়না যারা এতটুকু ভাত, তাদের ভেবে কি লাভ হবে?
আমরা তো বেশ সুখেই আছি, জীবন গড়ি অবাধ ভাবে।

আমরা স্বাধীন ধর্ম নিয়ে, কর্মগুলো যাক রসাতল।
অর্থ আছে কষ্ট কিসের? পুষ্ট দেহ দুই বাহুবল।
অন্ধ পথিক মরছে মরুক, বাঁচবে তারা কোন অধিকার?
আবর্জনা সব ধুয়ে যাক, সমাজ বুকে কমুক না ভার।

আমরা স্বাধীন সাজ পোশাকে, সভ্যতা হোক নগ্ন খোঁড়া।
ভগ্ন হয়ে পড়ুক সমাজ, থাকনা তবু এমন ধারা।
তেরঙ্গা ঠিক একই আছে, রঙের মানে বদলেছে আজ।
নিঃশ্বাসে বয় বিষের বায়ু,মানবতায় পড়েছে বাজ।
------------------------
স্বাধীনতা- ৫০
স্বাধীনতার পতাকা
সুভাষচন্দ্র ঘোষ


শহরের ময়লাফেলা ছেলেটা স্বাধীনতা দিবসের জমকালো
প্রভাতফেরীর কাদামাখানো
জাতীয় পতাকাটা রাস্তা থেকে
তুলে,জলে ধুয়ে ল্যাম্পপোষ্টে
ঝুলিয়ে দিল। পতাকাটা সবচেয়ে
সুন্দর ভাবে উড়ছে।
----------------
স্বাধীনতা- ৫১
           স্বাধীনতা
          নারায়ণ চন্দ্র মজুমদার

ভারতবর্ষ ৭৫ তম স্বাধীনতার অমৃত মহোৎসব পালন করতে চলেছে। স্বাধীনতার ৭৫ তম বছরে  পতাকা ঘরে ঘরে উদিত করে দেশ গড়ার মন্ত্রে নিজেকে উৎসর্গ এবং ত্রি- রঞ্জিত পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করে, একজন ভারতীয়  হিসেবে নিজেকে গর্বের সহিত গড়ে তুলতে চাই।
যাঁহারা দেশমাতৃকাকে বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী শক্তিকে পরাস্ত করে বুকের রক্তের বিনিময়ে হৃত গৌরবকে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয়েছেন , তাঁদেরকে জানাই আমার শতকোটি প্রণাম। সেই সব দামাল বীর সন্তান , স্বাধীনতার ৭৫ তম বর্ষপূর্তি উদযাপনের পূর্ব লগ্নে, আমাকে স্মরণ করিয়ে দেয়, নেতাজির সেই উদ্যত কন্ঠের আহ্বান," তোমরা আমাকে রক্ত দাও, আমি তোমাদের স্বাধীনতা দেব" । মনে পড়ে সেইসব শত শত বীর মুক্তিযোদ্ধাদের যাঁরা হাসতে হাসতে ফাঁসির দড়ি গলায় পড়েছিল।
হে স্বাধীনতা, আজ তোমার অলক্ষ্যে  শতকোটি ভারতবাসী তোমাকে জিজ্ঞেস করছে, তুমি কি আদর্শহীন মানবতাবাদ থেকে মুক্ত হতে পেরেছো? আজ মাতৃভূমি এক সৃষ্টি ছাড়া পরাধীনতার জাঁতাকলে পিষ্ট। দেশবাসী এক পংকিল আবর্তে হারিয়ে যেতে বসেছে। নেতাজী সুভাষ, মাস্টারদা সূর্যসেন, বিনয় বাদল দিনেশ, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, মাতঙিগনী হাজরা সবাই প্রশ্ন করছে !
সঙ্কীর্ণতা যেখানে সবকিছুর উর্ধ্বে ; - নারী নির্যাতন, খুন, ধর্ষণ যেখানে পত্র পত্রিকার হেডলাইন , স্বাধীনতা সেখানে একটি প্রহসন মাত্র।
শিশু ভূমিষ্ঠ হয়ে তোমাকে যদি জিজ্ঞেস করে স্বাধীনতভাবে বেঁচে থাকার জন্য অবশিষ্ট কিছু রেখেছো কি? জানি, তুমি রবে নীরবে। কেননা তুমি নির্বাক, শুধু একটি শব্দ মাত্র- " স্বাধীনতা" । "যাহা পেয়েছি তাহা চাইনি, আর যাহা চেয়েছি তাহা চাইনি।"
আজ দেশমাতৃকাকে স্মরন করে সমস্ত দেশবাসী  মন্ত্র মুগ্ধের মত তাকিয়ে আছে ঐ ত্রি- রঞ্জিত স্বাধীন দেশের  পতাকার দিকে , আর বলছে বন্দে মাতরম ,জয় হিন্দ, জয় ভারত।
------------------
স্বাধীনতা-৫২
স্বাধীনতার ৭৫ বছর পর সাধারণ মানুষের চোখে দেশের অবস্থা 
নরেন্দ্রনাথ নস্কর

ভারতের স্বাধীনতা পাবার পর প্রায় ৭৫ বছর কেটে গেছে। সেদিক দিয়ে এই বার ৭৬ তম স্বাধীনতা দিবস বলা যায়।
স্বাধীন ভারতের নাগরিক হিসাবে কি পেয়েছি বা কি পাইনি তার চুলচেরা বিশ্লেষন করতে এই লেখা নয়।

তবে রেডিও, টিভি, সংবাদপত্র ইত্যাদি দেখে ও পড়ে যা প্রতিফলিত হচ্ছে সেই নিয়ে কিছু কথা এখানে বলার চেষ্টা করব।

স্বাধীনতার বেশ কিছু বছর পর জন্ম এই পৃথিবীতে। 
ছোটবেলায় দেখেছি স্বাধীনতা সম্পর্কে কি গভীর দেশাত্মবোধ মনে জেগে উঠত। 
সিনেমার শেষেও দেখেছি জাতীয় পতাকা পর্দায় উড়ত। তখন দর্শকরা স্বতস্ফূর্তভাবে সবাই উঠে দাঁড়াত। 
মানুষের মধ্যে বেশ মূল্যবোধ বিদ্যমান ছিল।
 ছোটরা বড়দের যথা যোগ্য সম্মান করত। 
তখনও মানুষের মধ্যে কিছু ভাল ও অনেক খারাপ মানুষ থাকত। 
কিন্তু দিনের পর দিন ক্রমশ এই মুল্যবোধের অবনতি হতে থাকল।
খবর পড়ে যা দেখতাম, তখনও নেতাদের মধ্যে খারাপ ও ভাল দুটোই ছিল।  

এখন এমন অবস্থায় পৌঁচেছে যে, দুর্নীতি যেন হয়ে থাকে, এই মনোভাব সহে গেছে। 
টিভিতে দেখতে দেখতে মন খারাপ লাগে। 

টিভি দেখলে, শাসন ব্যবস্থায়  সাধারণের মনে বিতৃষ্ণা আসছে।

  ভাল সত নেতা খুঁজতে, ঠগ বাছতে যেন গাঁ উজাড় হয়ে লাগছে মনে হয় ।

স্বাধীনতার জন্যে দেশপ্রেমিক যোদ্ধারা যে ত্যাগ স্বীকার করেছিল, সেগুলো যেন কিছুটা হলেও ব্যর্থ মাঝে মাঝে মনে হয়।

নামেই স্বাধীনতা দিবস পালিত হচ্ছে।
 কিন্তু সেই দেশপ্রেম, দেশাত্মবোধ আর তো সত্যি দেখিনা কার্যক্ষেত্রে।

দেখানোর মত, উদাহরণ দেবার মতো সত, ত্যাগী, সাহসী নেতাও এখন যেন বিরল।

ভাল মানুষদের অযথা হয়রানি অনেক সময় করা হচ্ছে।
দুষ্ট মানুষের দমন ও শিষ্ট নরনারীদের পালন এখন কথার কথা যেন।

খারাপ কাজের প্রতিবাদ করা এখন যেন অন্যায় মনে হয়।
 তার পিছনেই নেতাদের রুষ্ট চক্ষু।
তাই প্রতিবাদ তার ভাষা হারিয়ে ফেলেছে। 

বেশিরভাগ শান্তিপ্রিয় মানুষ চুপচাপ থাকাই শ্রেয় মনে করছে।কারণ তাকে রক্ষা করার লোক খুব কম।
 প্রতিবাদ ও প্রতিরোধ না থাকায় দুষ্কৃতীরা দাপিয়ে বেড়াচ্ছে।

যার প্রাপ্য সে না পেলেও, কোথাও বলার বা শোনার মানুষ কম।
কত মানুষ যে বঞ্চিত হচ্ছে তার হিসাব পাওয়া মুশকিল। 
বিনা প্রতিরোধে, ও প্রায় বিনা বাধায়, যেন দিনের পর দিন সমাজের অবস্থা খারাপ ও  নিম্নগামী মনে হচ্ছে। 
দেশের অর্থনৈতিক উন্নতি হলেও সাধারণের,বিশেষ করে সাধারণ নিম্ন মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র সত মানুষদের অবস্থা ও প্রাত্যহিক জীবন যাত্রা কেমন যেন সহ্যের বাইরে মনে হয়।

ইচ্ছা থাকলেও কিছু বলার উপায় ও জায়গা খুঁজে পাচ্ছে না।
স্বাধীনতার প্রাপ্তি যেন, শুধু শাসন ক্ষমতার পরিবর্তন।
নামে একটা আইন বা সংবিধান আছে। সাধারণের জন্য তার সঠিক প্রয়োগ বা প্রতিফলন কোথায়?

জিনিস পত্রের দাম উর্দ্ধমুখি।
 ক্রয় ক্ষমতা হয়ত আগের থেকে বেশ কিছু বেড়েছে। 
কিন্তু মূল্য সাধারণের আয়ত্বের থেকে সরে যাচ্ছে।

সংবিধানে থাকলেও বাক স্বাধীনতা কোথায়?
মৌলিক অধিকার কি সত্যি বাস্তবে প্রতিফলিত হয় ?

একতা বাদ দিয়ে চারিদিকে কেমন যেন প্রাদেশিকতা, বিচ্ছিন্নতাবাদ মাথা চাড়া দিচ্ছে। 
এর কারণ কি?

ধর্ম ভাষা নিয়ে কেন এত বিভেদ, বিদ্বেষ? এর সমাধান কোথায়?
অখণ্ড ভারতবর্ষ সেই ভাবনা যেন শুধু সংবিধানে।

বিদেশী শাসকদের থেকে মুক্ত হয়ে এ কোন নতুন সমস্যা?

শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্য, বাসস্থানের অধিকার থাকলেও তার সত্যি মিলছে কতটা, তার পরিসংখ্যান কতটা বিশ্বাস যোগ্য, তার সঠিক  মূল্যায়ন কে করবে?
শিক্ষিত বেকারদের কর্ম সংস্থানের নিশ্চয়তা কোথায়?

শোনা যায় ভারতের যা প্রাকৃতিক সম্পদ, তার সদব্যবহার হলে, দেশে দারিদ্রতা থাকার কথা নয়।
কিন্তু বাস্তবে কি হচ্ছে, কে বলবে?

সবার থেকে গুরুত্বপূর্ণ হল দেশের  মানুষের, ও শাসন ব্যবস্থার সততার সূচক।
উন্নত দেশগুলোর তুলনায়, ভারতের সূচক অনেক নিচে। 
এই সূচক নাগরিক ও শাসন ব্যবস্থ্যার সততার মূল্যায়ন অনেকটা প্রতিফলিত হয়। 
স্বাধীনতার এত বছর পরেও ভারত কেন উন্নত দেশ গুলোর কাছাকাছি যেতে ব্যর্থ?
তার উত্তর কোথায়? 

মানুষ আশাবাদী।
তবুও হয়ত এমন এক দিন আসবে, যখন ভারতের সাধারণ মানুষ স্বাভাবিকভাবে সবাই সত পথে চলবে। 
শাসকরা সেবা, সততা দিয়ে নাগরিকদের সেবার সত্যি চেষ্টা করে যাবে।
দেখা যাক কি হয়? 

সেদিন সত্যি হয়ত দেশপ্রেমিক স্বাধীনতা সংগ্রামীদের স্বপ্ন কিছুটা  হলেও বাস্তবায়িত হবে।
----------------------
স্বাধীনতা- ৫৩
বিপন্ন  স্বাধীনতা
আখতারি  খাতুন

আজ ১৫ই আগস্ট আকাশে উড়ছে পতাকা
আজ নাকি স্বাধীনতা?

কোথায়  স্বাধীনতা, কেমন স্বাধীনতা উত্তর খুঁজে পাইনি।
গরীবের রক্ত শোষণ করে অট্টালিকা বানায়
যে দেশে জাত-ধর্মের বিচার হয়
এটাই কি স্বাধীনতা?

যে দেশে খুনিরা বুক চিতিয়ে অবাদে ঘুরে বেড়ায়
 নির্দোষীদের জেল হয়
 চার বছরের শিশু,আশি বছরের বৃদ্ধাও ধর্ষণের হাত থেকে মুক্তি পায় না।
 যে দেশে এখনো গ্যাং রেপ হয়
আসিফা কবর, টুইংকেল, নির্ভয়া'দের শ্মশান কাঁদে
 ন্যায্য বিচারের আশায়
এটাই কি স্বাধীনতা?

যে দেশে যোগ্যতার বিচার হয় না
টাকার বিনিময়ে অযোগ্য রা যোগ্য হয়।
যোগ্য'রা পথে  লুটায়,
ধর্মের দোহায় দিয়ে প্রকাশ্যে রাজ পথে
রক্তের হলি খেলে
 মসজিদ ভেঙে মন্দির হয়।
এটাই কি স্বাধীনতা?

যে দেশে আইন নিজের হাতে তৈরী হয়
প্রশাসন খুনের কাজে যুক্ত হয় 
আখলাখ,জুনায়েদ,পায়েলু খান,আফরাজুল,আনিস এর আত্মা এখনো  কাঁদে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশায়।
এটাই কি স্বাধীনতা?

ক্ষমতার অহংকারে অন্ধ হয়ে একদল  অমানুষ
 পুড়িয়ে মারে মানুষ 
প্রতিবাদ করলেই টুটি চেপে ধরে, নয় তো জেলের ঘানি  টানতে হয়।
মানুষ, কুকুর ডাসবিনে এক সাথে খাবার খায়
অমানুষ গুলো সিংহাসনে বসে লাল পানি হাতে নারী ভোগ করে।
এটাই কি স্বাধীনতা?

একবিংশ শতাব্দীর বিপ্লবীর 
কণ্ঠে,কলমে প্রতিবাদের ভাষা ক্ষীণ হয়ে বের হয় 
  কিছু এলোমেলো অক্ষর জুড়ে নাম কমানোর চেষ্টা।
শাসকের পদতলে  মানুষ  পিষ্ট হয়
ধুসর গণতন্ত্র,স্বৈরাচারী হাতে স্বাধীনতা বিপন্ন
এটাই কি স্বাধীনতা?
------------------------
স্বাধীনতা- ৫৪
তিন রঙ
রাজকুমার ঘোষ 

তোমরা কি ভাবো? 
ভালোবাসার আছে কি অনেক রঙ! 
তুমি কি ভালোবাসবে?
তুমি কি ভাবে ভালোবাসবে? 
তুমি কাকে ভালোবাসবে? 
তুমি কেন ভালোবাসবে? 
সবই তো প্রকারভেদ...
তোমার ভালোবাসা একমুখী হবে 
তাও তো তুমি নিশ্চিত নও..
মনে করায় গিরগিটিকে! 

তবে রঙ দিয়ে বুঝিয়ে দাও 
তোমার ভালোবাসার ধরণটি... 

চলোনা সবাই মিলে আমরা আগামীকাল 
তিন রঙ নিয়ে আগামীর স্বপন দেখি 
নতুন রূপে, নতুন আবেগে 
নতুন উন্মোচিত মনে 
ভোরের মিষ্টি আলোয় নতুন দিন দেখি।
----------------------
স্বাধীনতা- ৫৫
স্বাধীন ভারত 
অভিজিৎ দত্ত 

স্বাধীন ভারত উচ্চারণ করতে
কার না ভালো লাগে 
মনে হয়েছিল ভারত স্বাধীন হলে 
দেশে উঠবে উন্নয়নের জোয়ার 
থাকবে না বঞ্চনা,শোষণ, দূর্নীতি
বেকারদের হবে কর্মসংস্থান 
গরীবেরা পাবে রুটি ও বাসস্থান।

তারপর দেখতে, দেখতে কেটে গেল 
স্বাধীনতার পঁচাত্তরটি বছর 
আজও কী গরীব মানুষ পেয়েছে 
তাদের সব অধিকার?

আজও ভারতবর্ষে 
ধনী ও গরীবের 
কেন এত ব্যবধান?
শিক্ষা ও স্বাস্থ্যের অধিকার 
এখনও কেন হয়নি মৌলিক অধিকার?
ধর্ম নিয়ে হানাহানি 
কেন এখনও বন্ধ হয় নি?
গৌরবজ্জ্বল স্বাধীন ভারতের স্বপ্ন 
কেন এখনও হয় নি পূর্ণ?
-------------------- 
স্বাধীনতা- ৫৬
স্বাধীনতার অর্থ কি আত্মউল্লাস!
শুভ্রা ভট্টাচাৰ্য 


আজি ধ্বংস সুখের বিকৃত উল্লাসে 
আমার স্বাধীনতায় সমগ্র বিশ্ব হাসে, 
পোড়া বারুদের গন্ধ আকাশে বাতাসে 
টাকার দহনেই আনন্দ ফুর্তিতে ভাসে। 

তোমার মৃত্যুতেই আমার উৎসব 
দেখি মনের অলিন্দে শত শত শব, 
ক্ষমতার দাপটে সত্য বড় অসহায় 
ন্যায়নীতিরা হলো বুঝি মৃতপ্রায়। 

গলে আত্মত্যাগ ফুর্তির ফিউশানে 
স্বার্থ বাঁচে উগ্র ঔদ্ধত্বের আস্ফালনে, 
পোড়ে প্রেম প্রীতি হিংস্রতার দাবানলে
এ স্বাধীনতা শুধু চক্ষুধোলাইয়ের তালে।

দেশপ্রেমীদের মুখেতেই ফাঁপা বড়াই
পারেনি থামাতে কভু হিংসার লড়াই,
ওরা কখনও লাল কখনও হয় নীল
ওদের গিরগিটির সাথে বড়ো মিল।

ওদের অস্তিত্বে আমিত্বে সদা কলিসন
কক্ষচ্যুত আমিটার দিশাহীন রোটেশন,
তাই আত্মসুখের ওই আদিম উল্লাসে
আমার স্বাধীনতা আজ আমিত্বে ভাসে।
                
না জানি প্রকৃত স্বাধীনতা কারে কয়!
সে কি শুধুই ন্যায় নীতি ভাঙনময়!
প্রাণ প্রকৃতির কি অমর্যাদা অবক্ষয়!
নাকি স্বার্থ সুখের উল্লাসে আত্মময়!

 দিকে দিকে দ্বেষ বিদ্বেষ সন্ত্রাস ভয়
মেকি ভাষণ তোষণে গালভরা বাঙময়,
 ইগোর আস্ফালনে ভোগবাদের জয়
স্বেচ্ছাচার স্বৈরাচারে প্রকৃতি দূষণময়।

কিন্তু স্ব-অধীনতা বড়োই শৃঙ্খলাময়
আত্ম অনুশীলনে স্বশাসক হতে হয়,
মননে সততা মানবিকতা উদারতা রয়
তবেই দেশ ও দশ সর্বত্তোম কল্যাণময়।।
---------------
স্বাধীনতা- ৫৭
 চিরকাল
   মনোজ কুমার রায়

জানি! একদিন আমি হারিয়ে যাব-- 
চিরকাল থাকব না যে মায়াবী পথ খোঁজে।
সাজানো রঙ্গমঞ্চের স্থিরচিত্র হয়ে থাকব,
হেলায় পড়ে থাকা আসন লাগবে কাজে।
যন্ত্রের মত ইচ্ছের আকাশে উড়ে যাবে,
 হয়তো তা জন্মের কোন অভিশাপ হবে।
চিরকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন হবে বৃথা --
 সব কিছুই জেনে জীবনের বাস্তবিকতা।
পালিয়ে বেড়ায় যারা গুজব ছড়ায় তাঁরা,
অজানা বিষবাষ্পে ভরা শঙ্কায় দিশেহারা।
চিরকাল বেঁচে থাকার স্বপ্ন হবে বিপন্ন,
অলস মস্তিষ্ক নিয়ে গ্রাস করে যার নবান্ন।
ওদের বুঝিয়ে দাও প্রতিবাদের দরবারে,
চোখে চোখ রেখে যেন অগ্নিস্ফুলিঙ্গ ঝরে।
বৃথা জন্ম নিলে এই অরুণের বিন্ধ্যাচলে,
লুন্ঠিত রাত্রি মেলে আকাশের মুখ খুলে।
-------------------------
স্বাধীনতা- ৫৮
সত্য
আর্যতীর্থ

স্বাধীনতা সংগ্রামীরা যে দেশ স্বাধীন করার জন্য সংগ্রাম করেছিলেন,
সেই দেশ আমরা পাইনি। ইংরেজ বা জিন্নাহ, যেই হোক সে বিভাজনে ভিলেন, 
ভারত, ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান, যে নামেই ডাকি, তার বয়েস মেরেকেটে পঁচাত্তর,
আর সিকিমের যোগদান ধরলে আজকের ম্যাপের জন্ম উনিশশো পঁচাত্তরে, 
পাঁচ দশক আগে মাত্তর।

আড়াইশো বছর পিছিয়ে সিরাজদ্দৌলা  থেকে শুরু যে ব্রিটিশের দখলদারির ইতিহাস
সেখানেও লর্ড ক্লাইভের কল্পনাতে এক আলাদা ভারতবর্ষের বাস, 
বাহাদুর শাহ জাফরের ধারণাতে  আজকের ভারত আর কি করে থাকতে পারে,
আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা সাড়ে পাঁচশো ছশো রাজ্য ছিলোই না তাঁর এক্তিয়ারে। 

সমকালে দাঁড়িয়ে বোঝা মুশকিল আমাদের আগামীতে জন্মভূমি  দাঁড়াবে কেমন।
কিছু আপাত নিরীহ সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে খুবলে নিতে পারে কোনো অঞ্চল যেমন,
তেমনি কিছু বহু সমালোচিত পন্থা মজবুত করতে পারে এখনো নড়বড়ে ভিতের জায়গাগুলোকে, 
মোটকথা, ইতিহাসের নিয়ম মেনে ,
আজ থেকে কয়েক দশক পরে দেশটার মানচিত্র এখনকার থেকে আলাদা দেখবে ঠিক লোকে। 

ভূখণ্ডের খণ্ড বা বৃদ্ধিতে কোনো সময়েই দেশের ধারণা ধাক্কা খাবে না, 
যদি প্রতীক হয়ে ধ্রুবক থাকে জাতীয় সঙ্গীত, সংবিধান অশোক স্তম্ভ আর ত্রিবর্ণ পতাকা,
যাঁরা এতদিন ধরে প্রতিটি প্রজন্মে হয়ে আছে চেনা।

এই চারটি প্রতীক এইদেশে 
হিন্দুর কাছে রামমন্দিরের চেয়েও প্রয়োজনীয়,
মুসলমানের কাছে কাবার  মতো পবিত্র,
শিখের কাছে পঞ্চ‘ সাহিব’ এর সমান পূজনীয়,
খ্রীস্টানের কাছে ক্রুশের মতো চিরভরসার চিহ্ন
হওয়া চাই,
এঁদের বদলে দিলে আমাদের ইতিহাসও একেবারে ফাঁকা।

যিনিই শাসক হোন, তাঁর উচিৎ এ সত্য মনে গেঁথে রাখা।
---------------------
স্বাধীনতা- ৫৯
স্বাধীনতা
কান্তীশ

১ ।
এখানে ঝিরঝির ব্ঋষ্টিতে
 জাতীয় পতাকা ভেজে ,
নাকি কান্নায়!
বছরের বাকি দিনগুলো অল্পাহারে ,অনাহারে ,
অবহেলায় যায়।

২ ।
জাতীয় পতাকা অনেক উঁচুতে ,
পতপত ওড়ে তাই ,
দ্রব্যমূল্য সেও উঁচুতেই ,
অনাহারে কাটে ভাই ।

৩ ।
সাইরেন গাড়ী, নেতা ছুটে যায়,
পথ করা হয় ফাঁকা ,
সাইরেন গাড়ী,রোগী ছটপট ,
গড়ায় না তার চাকা ।

৪ ।
রাষ্ট্রনেতার পেনশন আহা !
সব হয়ে যায় সই  ,
রাষ্ট্ররক্ষী পেনশন চায় !
এত এত টাকা কই ?

৫ ।
ছোট ছোট চোর পুলিশেই ধরে ,
চমকায় ধমকায়,
বড় বড় চোর আহা আহা আহা 
পুলিশ-সুরক্ষা পায় !

৬ ।
ঘরে ঘরে নাই অন্নবস্ত্র
ঘরে ঘরে কাজহীন ,
ঘরে ঘরে ওড়ে জাতীয় পতাকা
হয়ে গেছি স্বাধীন ।

৭ ।
হরে কেষ্ট হরে কেষ্ট
কেষ্ট কেষ্ট হরে হরে,
গরীবের টাকা লুটপাট হয়ে 
জমে নেতাদের ঘরে ।

৮ ।
নেতা বলে ,ঘুষ দাও ,
চাকরি তো বাঁধা ,
যে জন না দিতে পারে 
তাকে বলি গাধা ।

৯।
স্বাধীন গাড়ী সে ফুটপাতে ওঠে 
ফুটপাতে থাকা দায় ,
ফুটপাতবাসী মরে গাড়ীতলে 
ড্রাইভার ছাড়া পায়  ।

১০ ।
শাড়ীর ওপরে বুক ছুঁয়ে দিলে 
সেটা ঠিক ছোঁয়া নয় ,
শ্লীলতাহানির বিচারে এসব
মনিমাণিক্য কয় ।
---------------------
স্বাধীনতা- ৬০
আমার স্বাধীনতা তোমার স্বাধীনতা
       কার্ত্তিক মণ্ডল 

আমার স্বাধীনতা-------
ডাস্টবিনে খোঁজে প্রাণ বাঁচানোর খাদ‍্য
তোমার স্বাধীনতা-------
কাবাব বিরিয়ানী বিদেশের দামি মদ্য ।
আমার স্বাধীনতা-------
লজ্জা সম্ভ্রম ঢাকে শত ছেঁড়া বস্ত্রে
তোমার স্বাধীনতা--------
শান দাও শুধু ফেলে রাখা ভোঁতা অস্ত্রে ।
আমার স্বাধীনতা-------
রোদে পুড়ি জলে ভিজে থাকি দিবারাত্র
তোমার স্বাধীনতা--------
পাথর বিছানো স্বর্গ সুখের গাত্র ।
আমার স্বাধীনতা-------
পরের বাড়ির চাকর ঝি'এর বৃত্তি
তোমার স্বাধীনতা-------
রক্ত শোষক আত্ম সুখের ফুর্তি ।
আমার স্বাধীনতা-----
বিচারের দোরে মাথা কুটে বারবার
তোমার স্বাধীনতা------
বিচারের বাণী নিভৃতে কর চুরমার
আমার স্বাধীনতা-------
ক্ষুদ্র এ বুকে সবারে আপন করে
তোমার স্বাধীনতা------
হিংসা বিবাদ ভ'রে দাও থরে থরে ।
আমার স্বাধীনতা-----
থাকুক এ বুকে  সুখে দুখে ভালোবেসে
তোমার স্বাধীনতা-----
লোলুপ কসাই চাই না আমার দেশে ।
----------------------  

আমাদের পদক্ষেপ পরিবার আয়োজিত বিশেষ ইভেন্ট "স্বাধীনতা"

 

বহু রক্তক্ষয়ের পর স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা ৷ ঘটেছিল দেশ বিভাজন ৷ রাজনীতির পাশাখেলায় তারপর থেকে আমরা অর্থাৎ আম জনতা নানাভাবে পিষ্ট হতে হতে হয়তো আজ 'স্বাদহীন'ভাবে স্বাধীন রয়েছি ৷ এই স্বাধীনতা কতখানি পরাধীনতা থেকে মুক্তি আর কতখানি ক্ষমতার হস্তান্তর তা নিয়েও রয়ে গেছে বিতর্ক ৷ তবু আজকের দিনটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ৷ তাই এই দিনটাকে উদযাপন করতে দেশজুড়ে গৃহীত হচ্ছে নানা কর্মসূচি ৷*

*আমাদের পদক্ষেপ পরিবারের পক্ষ থেকে আজকের দিনে পরিবারের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভকামনা ৷ পূর্বঘোঘণা অনুযায়ী আজ আমাদের এই পরিবারের যৌথ দেওয়ালে আয়োজিত হবে বিশেষ ইভেন্ট— "স্বাধীনতা" ৷ ইতিমধ্যে আপনাদের পাঠানো লেখাগুলো আমরা একে একে পোস্ট করব এখানে ৷ সেই ধারাবাহিকতা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ইভেন্ট চলাকালীন গ্রুপটি অনলি অ্যাডমিন করে রাখা হবে ৷ আপনাদের অনুরোধ, ধৈর্য রাখবেন ৷ সাথে থাকুন ৷*

----+++---

স্বাধীনতা- ৩৭
 আজাদী কা অমৃত
 হাবিবুর রহমান

স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছর।
'আজাদিকা অমৃত ' উৎসব পালন হচ্ছে সাড়ম্বরে।
উদ্বাহু ভারতবাসী,আহা কী মজা, কী মজা!
বিশ্বের দরবারে বাড়ছে ইন্ডিয়ার সুনাম।
আমরা এখন বিগ পাওয়ার।
আমি ভারতবাসী,
ফুলছে ছাতি ছত্রিশ ইঞ্চির বেশি।
সাবাস আমার দেশ,'আজাদী অমৃত' বেশ বেশ।
কিন্তু বেসুরো কেন যুবক বৃদ্ধের অধিকাংশ।
দেশের অভ্যন্তরে হতাশার রেশ।
চাকরিনেই,দুর্নীতি,বাজারমন্দা,মূল্য আকাশ ছোঁয়া,
নিত্য ব্যবহার্য-এ সাধারণের হাতে লাগছে সেঁকা।
গোদের ওপর বিষফোঁড়া  - 
রাম রহিমে  ষাঁড়ের লড়াই।
পাশাপাশি বাস,অথচ এসেছে অবিশ্বাস।
জিজ্ঞেস করুন ওমর চাচাকে,পালন জেঠুকে।
শেকল ভাঙার গান গেয়ে,এক চটাইয়ে শুয়ে,
ওরা ছিনিয়েছিল আজাদীকে।
নিশ্চয় এ আজাদী দেখার জন্যে নয়।
ধন ধান্যে পুষ্পেভরা ' ভারত'  নামের বসুন্ধরা,
ফিরিয়ে দাও ক্ষমতাধারিরা।
সেটাই হোক আজাদির অমৃত মহোৎসব।
ভেদভাও ভুলে সম্প্রীতির চাদরে মিলিয়ে দাও সকলকে।
---------------
স্বাধীনতা-৩৮
জন্মদিনে স্বাধীনতা
মৌমিতা চ্যাটার্জ্জী

স্বাধীনতা,
আজ তোমার জন্মদিন।
তুমি পা রাখলে শুভক্ষণের দোরে,
স্বাধীনতা!
তুমি সত্যিই হয়েছ স্বাধীন?
স্বীকার করো পঁচাত্তরের ভোরে।

স্বাধীনতা,
তোমায় গর্ভে ধরেছিল যাঁরা,
যাঁদের রক্তে বেড়েছিল তোমার প্রাণ,
 মনে রেখেছ, তুমি তাঁদের ইতিহাস?
 সম্মান কর? তাঁদের আত্মবলিদান!

স্বাধীনতা,
তোমার শরীরে কেন অত বারুদের গন্ধ?
দেখছ? পথে কেমন ওড়ে
 মা-বোনেদের ইজ্জতের ধ্বজা!
 ক্লেদাক্ত, রক্তচক্ষুর আস্ফালনে তোমার মুখ কেন বন্ধ?
  স্বাধীনতা তুমি বলতো, স্বাধীন হ‌ওয়া কি অত‌ই সোজা?

স্বাধীনতা,
তুমি শুনতে পাচ্ছ?
শিক্ষিতের তকমাধারী,
অশিক্ষিত ভ্রষ্টাচারীর 
    অহংকারী নিনাদ!
শিক্ষার পদদলন,অনায়াসে এড়ায় তোমার চোখ,
তুমি নিশ্চুপ!
গর্জে উঠে করোনা তো প্রতিবাদ,
বৈষম্যের ছুরিকাঘাতে নিহত প্রাণের প্রতি,
তোমার নেই এতটুকু শোক।

স্বাধীনতা,
তোমার রক্তাক্ত শিক্ষাভূমি,
স্বার্থপরতা রন্ধ্রে বেঁধেছে বাসা,
  কর্মহীনতার শিকার আজ সজীব উদ্যমী,
প্রায় ধূলিস্যাৎ আগামীর যত আশা।


স্বাধীনতা তোমার অট্টালিকায় বাস,
ক্ষমতার বশে পুঁজিপতিদের মুষ্ঠি,
ভরিয়ে দিচ্ছ,অবাধে কাড়ছ শুধু,
  দুঃখিনী মায়ের শেষ অন্ধের যষ্ঠি।

স্বাধীনতা,
তুমি শিখন্ডী প্রতিরূপ,
বাতাস মুখর আত্মপ্রচারী ঢাকে,
অসহায় জাতি-পায়না বিচার সুখ,
লজ্জা লুকায়,প্রহসনের‌ই ফাঁকে।

স্বাধীনতা,তুমি রাজা ও রানীর দাস,
প্রভাব, মনুষ্যত্বের চেয়েও দামী।
হিংসার আগুন পোড়ায় তোমার লাশ,
তুমি,লক্ষ্যভ্রষ্ট,ভ্রান্ত বিপথগামী।
----------
স্বাধীনতা- ৩৯
অন্তর ও বাইরে স্বাধীন 
 পারমিতা সরকার 


অন্তর থেকে আমরা জন্ম স্বাধীন। কেবল উপলব্ধি করার পথ জানা চাই। একবার যে স্বাধীনতার বোধদয় হলে সেই মানুষটার হাতে পায়ে শেকল পড়ায় সেই সাধ্যি কারোর নেই। মূলত আধ্যাত্মিক চৈতন্য জাগরণের উপর ভিত্তি করে এই বোধদয় আমাদের আসতে পারে।  আন্তরিকভাবে স্বাধীনতা বোধ না থাকলে যেকেউ যেকারোকে পরাধীন করে ফেলতে পারে। কারণ স্বাধীনতার দৃঢ় বোধ একমাত্র মানুষকে প্রেরণা দেয় তা যেকোনো মূল্যে অর্জন করতে এবং অন্যের সাতন্ত্রে হস্তক্ষেপ না করতে। ভিত্তিগতভাবে আমি বা আমরা স্বাধীন হলে আমায় বা সামগ্রিক জাতিকে কেউ পরাধীন করে চাবুক চালায় কীভাবে? এই চৈতন্য যখন আসে তখনই স্পর্ধা হয় নিজে হাতে চাবুকটা শোষকের হাত থেকে কেড়ে নিয়ে ফেলে দেবার এবং অবশ্য তা নিজে হাতে তুলে না নেওয়া। ততকালীন ইংরাজ সরকারের কুশাসন কি অধুনা বিচ্ছিন্নতাবাদে দুষ্ট জাতীয়তাবাদ মানুষের অন্তর্জাগরনের অন্তরায় হতে পারেনি ও পারবে না।  চেষ্টা করলে স্বাধীনতা বোধ প্রাপ্তি ও তার সামাজিক অর্জন করা অবশ্য সাধ্য।

১৯৪৭ সালের স্বাধীনতা আজ প্রবীণ। কিন্তু সমসাময়িক বিবিধ পরাধীনতার বন্ধন ভেঙে বেরনোর  স্বাধীনতার বয়স কতো? নিজের নিজের ক্ষেত্রে অচলায়তন ভেঙে বেরনোর লড়াইটা সৎ উপায়ে করছি তো? নাকি ৭৫ বছরের এক প্রবীণের জন্মদিনে পায়েস ছেড়ে কেক কাটছি? স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে তার উদযাপন করার সাথে নিজেদের জীবন দশায় যে অসীম সম্ভাবনা আরো অনেক পরাধীনতা থেকে জাতিকে মুক্ত করবার তার দায়িত্ব পালন করছি তো? নিরন্তর নিজেকে তপ্ত করা প্রশ্নের সাথে পাঞ্জা লড়ে স্বাধীনতার উপলব্ধি প্রয়োজন। 

ঋষি অরোবিন্দ জেলের কুঠরীতে সেই আধ্যাত্মিক মুক্তি পান ও তার লেখনী বহু যুবককে সক্রিয় স্বাধীনতা সংগ্রামে উদ্ভুদ্ধ করে। আমার ব্যক্তিগত অভিমত হলো নিজের স্বরূপ জানলে মানুষ আর নিজেকে প্রকান্ড ভেবে অন্যকে নীচু করবে না আবার নিজেকে কেবল ক্ষুদ্র মনে করে অন্য কারোর কাছে অনবদমিত হয়ে থাকবে না। নিজেকে জানার পর চরম অথবা নরম যেকোনো পন্থায় পরাধীনতার বন্ধন ভেঙে বেরনো অসম্ভাবি। এই সময় সাপেক্ষ লড়াইয়ের অন্তে যে পথ বেরোয় তা দীর্ঘদিন মানুষের মনকে শৃঙ্খল মুক্ত করে রাখতে পারে। 

স্বাধীনতা শব্দটির অতিসরলীকৃত একটি কুরূপ হল স্বেচ্ছাচার। আমাদের আচরণের মধ্যে আচার বিচার অনাচার স্বেচ্ছাচার এইগুলোকে চিহ্নিত করে আত্মসংযম করে নিতে পারলে আমরা প্রকৃত স্বাধীনতার সন্ধান পেতে পারি। তখন অন্তর ও বাইরে সর্ব অর্থে আমরা কেবল স্বাধীন মানুষ হব। তখন বৈচিত্রের মধ্যে অনৈক্য নয়, ভেদ নয়, নতুনত্বের আনন্দ খুঁজে পাবো ও তা আলিংগন করার প্রেরণা পাবো।
-------------------
স্বাধীনতা- ৪০
আজাদীর ৭৫ বছরে ও স্বাধীনতার মানে খুঁজে চলেছি
বটু কৃষ্ণ হালদার

ছোট বেলা থেকে ঠাকুরদা নয় তো ঠাকুরমার কাছে ঘুমাতাম। আমি, বোন,দিদি তিন জনেই শুধু মাত্র গল্প শুনবো বলে। স্কুল ছুটির দিন হোক বা রাত্রি তে, ঠাকুমার মুখে ভূতের কিম্বা ঠাকুমার ঝুলি র গল্প না শুনলে ঘুম আসতই না। তবে ঠাকুরদার মুখ থেকে প্রথম শুনি দেশ স্বাধীন হওয়ার কথা। কত দেশ বীরেরা ফাঁসি কাঠে ঝুলেছিল। আন্দোলন করতে গিয়ে রক্তে রঙ্গিন হয়ে উঠেছিল ভারত মায়ের আঁচল। দেশবীর ক্ষুদিরাম এর কাহিনী বলতে বলতে ঠাকুর্দার চোখে জল চলে আসতো। আমি মোহিত হয়ে শুনতাম। স্বাধীনতা দিবসের আগে প্রায় সবার মুখে মুখে"এক বার বিদায় দে মা ঘুরে আসি"গান টা শোনা যেত। বাবা সময় পেলে ওই গান টি গাইতেন। ভগৎ সিং, বিনয়, বাদল, দীনেশ, বাঘা যতীন, প্রফুল্ল চাকী, মাতাঙ্গিনি হাজরা, মাস্টার দা সূর্য সেন, প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদার, কানাইলাল প্রমুখ দেশ বীর দের কাহিনী শুনেছিলাম ঠাকুরদার মুখ থেকে। আমার পড়াশুনা ছিল গ্রামের স্কুলে। নাম পাঠান খালি আদর্শ বিদ্যা পিঠ। ফাইভ, সিক্স থেকে পছন্দের বিষয় ছিল ইতিহাস। ক্লাস এইট এর ইতিহাস শিক্ষক ছিলেন সুবল জেঠু, উনি দেশের কথা, বীর সৈনিক দের কাহিনী গুলি খুব সুন্দর ভাবে বলতেন গল্প করে। উনি শিখিয়ে ছিলেন দেশ কে ভালো বাসতে। নীল চাষী দের উপর ব্রিটিশদের অত্যাচারে কাহিনী শুনিয়েছিলেন। কি ভয়ঙ্কর, নিপিড়ন করত তা ভাষায় প্রকাশ করা যাবে না। উনি যেদিন জলিয়ান ওয়ালা বাগের কাহিনী পড়াচ্ছিলেন সেদিন সারা শরীরের লোম খাড়া হয়ে গিয়েছিল। কিভাবে এত মানুষ কে নিশংস ভাবে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল? সারা রাত ঘুমাতে পারিনি। ইস যদি সে সময়ে আমার জন্ম হতো আমি ও ইংরেজ দের মেরে দেশের জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করতাম। আজও নেতাজি সুভাষ এর কথা খুব মনে পড়ে। যে দেশের জন্যে নিজেদের কে উৎসর্গ করেছিলেন সেই দেশ আজ যোগ্য মর্যাদা টুকু ও দেয়নি। কিছু আদর্শ হীন নেতাদের দৌলতে কনিষ্ঠ দেশ  নায়ক ক্ষুদিরাম বসু ইতিহাসে "সন্ত্রাসবাদী" তে আখ্যায়িত হয়েছে। ভাবতে খুব কষ্ট হচ্ছে জাগতিক নিয়মের অনুসারে তার মৃত্যু দিবস পালিত হচ্ছে বটে,কিন্তু কেনো তাকে সন্ত্রাসবাদী তে আখ্যায়িত করা হলো তার প্রতিবাদ কেউ করেনি।

একটু বড় হতে স্বাধীনতা সম্বন্ধে ধারণাটা পাল্টে গেলো।এখন দেখি ১৪ আগস্ট রাত বারোটা পার হতেই অনেক জায়গায় পতাকা উত্তোলন চলে।এর পর শুরু হয় উল্লাস।সকাল হতেই মদ আর মাংসের দোকানে দেদার লাইন।যারা পতাকা উত্তোলন করে তাদের অনেকের হয় তো স্বাধীনতা,শহীদ শব্দটি সম্বন্ধে এতটুকু ধারণা নেই।আমরা কি এমন স্বাধীনতা চেয়েছিলাম?নিঃস্বার্থ ভাবে এক শ্রেণীর জনগন নিজেদের জীবনের বিনিময়ে স্বাধীনতা দিয়ে দেশ কে স্বার্থপর দের হাতে তুলে দিয়ে গেলো। যারা পতাকা উত্তোলন করে তাদের দ্বারা শহীদদের মূর্তি ভাঙা,পতাকা পোড়ানো,ট্র্যাডিশন হয়ে দাঁড়িয়েছে।দেশের জাতীয় সংগীতের প্রতি অনীহা দেখা দিচ্ছে।দেশ তো স্বাধীনতা পেল,কিন্তু চিন্তা ধারায় কোন পরিবর্তন আসেনি।এসব দেখে মনে হয় ছোট বেলায় স্বাধীনতা পালন ছিল অনেক বেশি আনন্দের।

বর্তমান সময়ে এসে আমরা আজকে যে পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সম্মুখীন হচ্ছি,তাতে বলা চলে ব্রিটিশ ফিরে এসো দাসত্ব আমার জন্মগত অধিকার।কারণ স্বাধীনতার আগে ব্রিটিশরা স্বপ্ন, আশা,ভরসা,স্বাধীনতা,সবকিছু লুট করে নিয়ে গিয়েছিল। স্বাধীনতার পরে আমরা ভারতবাসী হিসাবে দেশকে কি দিয়েছি? ব্রিটিশরা নিয়ে গেছে অনেক কিছুই কিন্তু দিয়ে গেছে জ্ঞানের আলো, সেই শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আমরা ধ্বংস করে ফেলেছি।এর পরে ও বলবেন ব্রিটিশরা খুব খারাপ। একটা কথা মাথায় রাখবেন ব্রিটিশরা এসেছিল বলেই ভারতবর্ষের মানুষ সভ্য হতে পেরেছে, প্যান্ট জামা,,শুট, বুট পরতে শিখেছে। নইলে আন্দামানের জারোয়ারদের মতো আজও তারা উলঙ্গ ভাবে বসবাস করত।

আগামীকাল স্বাধীনতা দিবস।স্বভাবতই প্রশ্ন জাগে আমরা সাধারণ মানুষ যারা, তারা কি প্রকৃতই স্বাধীনতা পেয়েছি?আজ যারা দেশ সেবক তারা কি সত্যিই চায়, সাধারণ মানুষ স্বাধীনতা ভোগ করুক?

 না চায় না, সবাই চায় নাম, প্রতিষ্ঠা।চৌদ্দ পুরুষের জন্য কিছু কামিয়ে নেওয়া আর বড় বড় বচন ঝেড়ে নেতা হওয়া।সত্যি কারের কজন দেশ সেবক নেতা আছে, যে সাধারন লোকের পরাধীনতার জ্বালা অনুভব করবে? বর্তমান সময়ে পশ্চিমবাংলার রাজনৈতিক নেতাদের অবস্থা দেখে দেখে উপলব্ধি করা যায় যে,কেন আজও ভারতবর্ষে উলঙ্গ জারোয়া ঘুরে বেড়ায়।আজাদীর ৭৫ বছর পরেও সমাজের একশ্রেণীর মানুষ স্বাধীনতার মানে খুঁজে বেড়াচ্ছে। কারণ যে স্বাধীনতা আমরা পেয়েছি তা দেশবাসীর পক্ষে যথার্থ নয়। ভারতবর্ষের স্বাধীনতা মানে বড়লোকদের কাছে উল্লাস আর গরিবদের কাছেঅত্যন্ত দুঃখের।শুধু তাই নয়,আমরা স্বাধীনতা পাবার সঙ্গে পেয়েছি দেশভাগ।ঠিক তার এক বছর আগে অর্থাৎ ১৯৪৬ সালে পেয়েছি রাজনৈতিক ক্ষমতার লোভে নিরীহ হিন্দুদের বলি হওয়ার যন্ত্রণা।

স্বাধীনতার পঁচাত্তর বছরে চলেছে স্বাধীন ভারত নির্মাণ সঙ্গে সঙ্গে ৭৫ বছর ধরে চলেছে দেশভাগের বলি ছিন্নমূলদের উদ্বাস্তু জীবনসংগ্রাম, নূতন মাটিতে টিকে থাকার লড়াই। বিশেষত উত্তর-পূর্ব ভারতে ছিন্নমূলদের উপর এসেছে রাজনৈতিক সামাজিক সাংস্কৃতিক আঘাত অভিঘাত,এসব প্রতিকূলতার সাথে মোকাবিলা করে অসম লড়াই করে যাওয়ার ঐতিহ্য নিয়ে ছিন্নমূল জীবনযাপন।
--------------------
স্বাধীনতা- ৪১
হর ঘর
আর্যতীর্থ

হর ঘর কাজ কর , বলো স্বাধীনতা,
সব পেট শিখে নিক স্ব-অধীনতা।
যতদিন অনুদানে মিটে যাবে খিদে
মগজের পরাধীন থাকলে সুবিধে।

হর ঘর অক্ষর, শিক্ষার আলো,
স্বাধীনতা , এসো তুমি সে প্রদীপ জ্বালো। 
আলেয়াকে আলো ভেবে ঘুরে মরে যারা 
কোন পথে রোদ্দুর বুঝে যাক তারা।

হর ঘর ঈশ্বর হোন ফিস স্বর 
ধর্ম চেঁচালে হয় দেশ নিঃস্বর।
মাইক লাগে না কোনো পুজো বা আজানে 
ক্ষমতা দেখানো ওটা উপাসনা ভানে।

হর ঘর নারী নর একই মান পাক,
একটি বা দুটি শুধু  শিশু জন্মাক।
‘ বেটি সরাও’ থেকে ভাবনা উঠুক,
যে কটি কন্যাভ্রুণ, সবাই ফুটুক।

হর ঘর সব স্বর ভোটে যাক শোনা,
আর নয় হেরোদের ঘরে লাশ গোনা।
স্বাধীনতা ,বলো তুমি নেতাদের গিয়ে
স্বাধীনতা বোঝা যায় বিরোধিতা দিয়ে।

হর ঘর পাক খড় কুটিরের চাল,
রাস্তায় কারো যেন না হয় সকাল। 
নিজের ঘরেই পাতা শয্যাতে শুয়ে,
সব লোক ঘুম যাক খেয়ে হাত ধুয়ে।

হর ঘর গড় হোক দেশ-প্রেমীর
চিনে নেবে খালে ভাসা সকল কুমীর।
ধর্মের ভেদে নয় আমি আর তুমি,
সে আমার সাথী যার এ জন্মভূমি। 

হর ঘর অ-খবর হোক শুধু ঠোঙা,
যত ফেক টিপ করে ফুঁকে যাক চোঙা।

হর ঘর তবে যাবে এ প্রিয় তেরঙা….
---------------------
স্বাধীনতা- ৪২
 প্রজন্মের এ কেমন স্বাধীনতা!
 শুভ্রা ভট্টাচার্য


না জানি এ কোন স্বাধীনতার ভোর!
প্রজন্মের চোখে উৎশৃঙ্খলতার ঘোর,
স্বাধীন ডানায় ওড়ার স্বপ্ন দুচোখে ভর
বিবেচনাহীন কর্মে ভূলুণ্ঠিত অতঃপর।
অতি স্বাধীনতায় সবেতেই তড়িঘড়ি
সময়ের পরে ওরা নাহি কিছুই ছাড়ি,
চাহিদা মেটানোতে যত কিছু বাহাদুরি
অবশেষে হতাশা অবসাদে মরি মরি।
কভু না পাওয়াকেও দিতে হয় মান্যতা
তবেই মননের সাথে বাড়ে সু-সখ্যতা,
কিছু ত্যাগ কিছু ছাড়াতে খোঁজ সুখ
নইলে প্রাণে অতৃপ্তি আর অসীম দুখ।।
এ প্রজন্মেরা চটকদারি সুখ অন্বেষণে
তন্ত্র বুজরুকি তাবিজ কবজের শিকার
হাতে রঙের পাথর, পায়ে কালো কার
এরপরও পোশাকে গর্জন স্বাধীনতার! 
অতি আধুনিক অশালীন কুরুচিকর 
অতি রঞ্জিত বহুরূপীসম তাদের সাজ, 
দেখনদারি আলগা চটকে উৎশৃঙ্খলে
সোশ্যাল মিডিয়ায় করছে ভীষণ রাজ!
স্বাধীন চিন্তনে"কি খাই কি পরি"পোস্ট
অভাবীর লালানিঃসরণ হয় নাকো রোধ!
অপরের তরে ভাববার কোথা অবকাশ!
পরিশেষে আত্মমগ্নতায় নিরাশা বোধ।।
হায়রে নব প্রজন্ম! হায় রে যুবশক্তি! 
তোমরা স্বাধীনতার মানে বুঝলে না!
আরাম আয়েসে পেতে চাও সব সুখ
জীবনসংগ্রামের ময়দানে নামবে না,
শিক্ষা নম্বর চাকরি রুজি রোজগার 
মুফতে পাওয়ার অন্যায্য কত বায়না!
আত্মসুখে ভুলেছো মহতী অমরবাণী
"কষ্ট না করিলে কভু কেষ্ট মেলে না"।
শক্তি ও ভরের মতো জেনো সব নিত্য
জীবন-প্রথমাংশে করো লড়াই সংগ্রাম,
জীবন শেষের পথটি হবে মসৃণ সমান
আত্মশাসনে সংযমতায় সুকর্মের দাম।।
স্বাধীনতার অপব্যবহারে দুঃখ পরাজয়
হৃদয়ে ন্যায় নীতি আদর্শেরা ভাঙনময়!
অধুনা প্রাণ প্রকৃতির অমর্যাদা অবক্ষয়!
আমি তুমি স্বার্থসুখের উল্লাসে আত্মময়!
তাই চারিদিকে দ্বেষ বিদ্বেষ সন্ত্রাস ভয়
মেকি ভাষণ তোষণে গালভরা বাঙময়,
মিছে ইগো আস্ফালনে ভোগবাদের জয়
স্বেচ্ছাচার স্বৈরাচারে প্রকৃতি দূষণময়।।
কিন্তু স্ব-অধীনতা বড়োই শৃঙ্খলাময়
আত্মঅনুশীলনেই স্বশাসক হতে হয়,
মননে সততা মানবিকতা উদারতা রয়
তবেই দেশ ও দশ সর্বত্তোম কল্যাণময়।।
---------------
স্বাধীনতা- ৪৩
আমার বাড়ি
 নীপবীথি ভৌমিক

চোখ বন্ধ করে রেখেছি, চোখের আরাম বুঝে।
  শব্দ ঢোকে না কানে, সেতো অনেক দিন !

    তবে চোখে দেখি। দৃশ্য থেকে নয়!
  দৃষ্টি দিয়ে। শব্দ শুনি। আওয়াজ শুনে নয়।
    হৃদয় দিয়ে।

   আমার মায়ের নাম ভারতী
    পিতা রহমত শেখ, ভাই তেনজিং, বোন বর্ষা,
    ওকে সবাই বর্ষ নামেই চেনে।
        আমার বাড়ির নাম ভারতবর্ষ
 আর রক্তের রং ভালোবাসা।
-----------------
স্বাধীনতা- ৪৪
  স্বাধীনোত্তর ভারত
মেরী খাতুন


 মানুষের জীবনে স্বাধীনতার থেকে বড় কিছু নেই।  দেশ স্বাধীন হলেই মানুষের সর্বাধিক উন্নতির পথ প্রশস্ত হয়ে যায়। কবি রঙ্গলাল বন্দ্যোপাধ্যায় তাই বলেছেন----- স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায়। দাসত্ব শৃংখল বল কে পরিবে পায় হে, কে পরিবে পায়?"
পুরাতনের বিদায়ের মধ্যে দিয়েই ঘটে নবীনের আগমন। পুরনো শতকের সুখ-দুঃখ, জয়-পরাজয়, হাসি-কান্না ভুলে স্বাগত জানাতে হবে নতুন শতকেকে। নতুন শতক নতুন আশা-উদ্দীপনায়, প্রাণ-প্রাচুর্যে মানুষের হৃদয় ভরে তুলবে,  না বিংশ শতাব্দীর চেয়েও হতাশার অন্ধকারে ভারতবাসীকে নিক্ষিপ্ত করবে?-- এটাই জিজ্ঞাসা। 

 ভারতবর্ষের ইতিহাসে বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধ খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ভারতবাসীর যা-কিছু আশা-আকাঙ্ক্ষা,সংশয় সবই এই প্রথমার্ধ জুড়ে। বিভিন্ন ঘটনায় পূর্ণ এই ভারতবাসীর মনে গভীর দাগ কাটতে সক্ষম হয়েছে। এই শতকের সূচনাতেই লর্ড কার্জনের "বঙ্গভঙ্গ আইন" অবিভক্ত বাংলার মানুষকে প্রতিবাদে সোচ্চার করেছে। সারা ভারত আন্দোলন ও প্রতিবাদে মুখর হয়ে উঠেছে। ব্রিটিশ শাসনের পীড়ন ও অত্যাচার থেকে মুক্ত হতে চেয়েছে ভারতবর্ষের মানুষ। অসহযোগ ও খিলাফৎ আন্দোলন ইংরেজদের মসনদকে কাঁপিয়ে তুলেছে। পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগ হত্যাকান্ড দেশের আবালবৃদ্ধবনিতার মনে ইংরেজদের প্রতি ঘৃণা জাগিয়ে তুলেছে। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথও এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ইংরেজ সরকারের দেওয়া 'নাইট' উপাধি পরিত্যাগ করেন। স্বদেশী আন্দোলনের ঢেউ সমগ্র ভারতবর্ষের জনজীবনকে উত্তাল করে তুলেছে।শতশত যুব-প্রাণ নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দেশের স্বাধীনতার জন্য। এই সময়েই সংঘটিত হয়েছে পরপর দুটি বিশ্বযুদ্ধ। অবশেষে ১৯৪৭ সালে ১৫-ই আগষ্ট দ্বিখন্ডিত হবার ব্যথা বুকে নিয়ে স্বাধীন হয়েছে ভারত। 

 পন্ডিত জওহরলাল নেহরুর নেতৃত্বে জনগনতান্ত্রিক প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র ভারতবর্ষের মানুষ নতুন আশায় বুক বাঁধল। ১৯৫০ সালে আম্বেদকরের নেতৃত্বে রচিত হল ভারতীয় সংবিধান। পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার মাধ্যমে দেশের অগ্রগতি মন্থর গতিতে এগিয়ে চলল। নতুন নতুন কলকারখানা স্থাপিত হল,কৃষি ক্ষেত্রে ঘটল বিপ্লব। খাদ্যেও শিল্পোপযোগী কাঁচামালে স্বনির্ভরতার পথে ভারত এগিয়ে চলল। জন্ম হল শিল্পনগরীর। কিন্তু দেখা দিতে লাগল নানান সমস্যাও। জনসংখ্যা বৃদ্ধি, বেকারি, আবাসন সমস্যা, পরিবহণ সমস্যা,মুদ্রাস্ফীতি দেশের অগ্রগতির পথে বিরাট বাঁধা হয়ে দাঁড়াল। সমস্যা মোকাবিলার জন্য নানা পরিকল্পনা গৃহীত হতে থাকল।এরপর আছে প্রতিবেশী রাষ্ট্রের আগ্রাসী মনোভাব। শক্ত হাতে দমন করার প্রচেষ্টা হতে থাকল। হাজার হাজার শরণার্থীর বোঝা,প্রতিরক্ষা খাতে অতিরিক্ত ব্যায় ইত্যাদি সমস্যায় জর্জরিত ভারতবর্ষে দেখা দিল আর্থিক অসাচ্ছল্য, বাড়তে থাকল বৈদেশিক ঋণের বোঝা। তবে শুধুই কি হতাশা? চরম দুঃখের মধ্যেও উন্নতি হয়েছে পরিবহণ ব্যবস্থার। চক্ররেল-পাতালরেলসহ আধুনিক পরিবহণ ব্যবস্থার প্রচলন হয়েছে। অনেক ভারী ও মাঝারি শিল্প রূপায়িত হয়েছে। উন্মেষ ঘটেছে সত্যজিৎ রায়, উদয়শঙ্কর, রবিশঙ্কর, বিদ্রোহী কবি নজরুল,এ.পি.জে আব্দুল কালামের মতো বিশ্ববরেণ্য প্রতিভার। আর সর্বাপেক্ষা লজ্জাজনক ঘটনা হলো বিচ্ছিন্নতাকামী শক্তির হাতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর মৃত্যু। আজও সমগ্র ভারত অস্থির।  কাশ্মীর, আসাম, পাঞ্জাব---সর্বত্রই বিচ্ছিন্নতাবাদীদের কালো হাত সম্প্রসারিত। আজ একটা চরম সংকটের মুখোমুখি এসে দাঁড়িয়েছে দেশ। সামাজিক, অর্থনৈতিক, ধর্মীয় সংকটের মধ্য দিয়ে আজ ভারতবর্ষ এসে দাঁড়িয়েছে। 

 স্বাধীনতার পর ৭৫ বৎসর অতিক্রান্ত। আজও ভারতের অগ্রগতির চিত্র নিতান্তই অস্পষ্ট। ভারতবাসীর মনে অনেক আশা-আকাঙ্ক্ষা জন্মেছে, ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে। পরিকল্পনা খাতে হয়েছে অর্থব্যয়,কিন্তু কাজ হয়নি। ভারত পারবে কি তার এই পাহাড়প্রমাণ সমস্যার সমাধান করতে? সমস্যাকন্টকিত ভারতবর্ষ কি পারবে সমাধানের ফুল ফোটাতে? বরং ইতিহাসের ধারা অনুসরণ করলে বলা যেতে পারে সমস্যাবলী আরও ঘনীভূত হবে। জনসংখ্যার হার ক্রমশই বর্ধমান, কাজেই খাদ্যশস্যে ঘটবে ঘাঁটতি। পণপ্রথা,ধর্ষণের প্রকোপে নারী জাতি আজ অসহায়। বেকারত্ব,মুদ্রাস্ফীতি,দারিদ্র্য, অনাহার, মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলবে। বাড়বে বৈদেশিক ঋণের বোঝা। বিপন্ন হবে জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশ।  সাম্প্রদায়িক ও বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তি আরও মাথাচাড়া দিয়ে উঠবে। ঘন ঘন রাজনৈতিক পালাবদল দেশের অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেবে। প্রকট হবে নৈতিক অবক্ষয়, মানবিক মূল্যবোধের ঘটবে অপমৃত্যু। আশঙ্কা---হয়তো বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবে ভারত। আগামী হয়তো ভারতবাসীর কাছে চরম অভিশাপ নিয়ে আবির্ভূত হবে। 

 কিন্তু হাজার সমস্যা থাকলেও নতুন ভাবে, নতুন ভঙ্গিতে বাঁচার আশা ভারতবাসী তো পরিত্যাগ করতে পারেনা। চিরন্তন ঐতিহ্য অনুযায়ী ভারতবর্ষ অন্যায় ও অশুভ শক্তির বিরুদ্ধে মাথা তুলে দাঁড়াবেই। ঐক্য ও সংহতির সনাতন আদর্শ সমস্যাদীর্ণ ভারতবাসীকে একত্রিত করবে। সুস্থ, সবল, ঐক্যবদ্ধ ভারতবাসী শক্ত হাতে  করবে সাম্প্রদায়িকতা দমন। সুন্দর ভারতবর্ষ গড়তে হয়তো প্রয়োজন কোনো যাদুদন্ডের স্পর্শের।  তবুও আশাই পারে মানুষকে অভীষ্ট লক্ষে পৌচ্ছতে। সেই আশা বুকে নিয়ে ভারতবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। স্বাধীনতার উৎসবের দিনে আমাদের শপথ গ্রহণ করতে হবে--বহুকষ্টে অর্জিত স্বাধীনতা যেন আমরা ধর্মবিবাদে বিচ্ছিন্নতার উন্মত্ত নেশায় দিকভ্রান্ত হয়ে না হারাই। মনে রাখতে হবে আমরা মিলে-মিশে থাকলেই ভালোভাবে বাঁচতে পারবো। বিচ্ছিন্ন হলে আমাদের ধ্বংসের হাত থেকে কেউ রক্ষা করতে পারবে না। 

               জয় হিন্দ, বন্দেমাতরম ।
------------------------
স্বাধীনতা- ৪৫
স্বাধীনতা
অভিজিৎ দত্ত 


সত্যিই কী আমরা স্বাধীন?
নাকি স্বাধীনতার নামে
মুষ্টিমেয়  কিছু লোকের কাছে
আবার হয়েছি পরাধীন?

স্বাধীনতার মানে কী
বিদেশীদের হাত থেকে উদ্ধার হওয়া?
নাকি স্বাধীনতার মানে
ভোট দানের অধিকার পাওয়া?

স্বাধীনতার মানে যদি হয় উন্নয়ন 
তাহলে প্রত্যেক ভারতবাসীর 
অন্ন,বস্ত্র, বাসস্থানের  চাহিদা
হয়েছে কী পূরণ?

সত্যিকারের স্বাধীনতার মানে
প্রত্যেক মানুষের নূন্যতম চাহিদা পূরণ 
রাষ্ট্রের বৃহৎ কর্ম যজ্ঞে
সামিল হবে জনগণ। 

প্রত্যেক মানুষের অধিকার আছে
খেয়ে,পড়ে বাঁচবার 
যে কোন  জীবিকা
গ্রহণ করবার। 

স্বাধীন দেশের প্রত্যেক ব্যক্তির
নূন্যতম চাহিদা যদি না হয় পূরণ 
তবে স্বাধীনতার নামে
কেন মিথ্যে আস্ফালন?

স্বাধীনতা ,যুগ ,যুগ ধরে
পরাধীন মানুষের তুমি ছিলে
একমাত্র আকাঙ্খা ।
এই স্বাধীনতার জন্যই 
কত শহীদের হয়েছে বলিদান 
তাদের কথা ভেবে
আজকের  নেতাদের আচরণে
লজ্জা পাচ্ছে জনগণ। 

স্বাধীনতার সুফল যদি
জনগণের ঘরে,ঘরে 
পৌঁছাতে না পারো 
স্বাধীনতা দিবস পালন করা
অর্থহীন মনে হবে এবারও।

ভোগ সর্বস্ব নেতারা
একটু বিবেক জাগ্রত করো
জনগণের উন্নতির জন্য 
একটু চেষ্টা করো।
---------------
স্বাধীনতা- ৪৬
আজকের স্বাধীনতা
সঞ্জিত ভট্টাচার্য্য

 স্বাধীনতা,তুমি তো মুক্তির স্বাদ,কবির প্রেরণা আর তারুণ্যের জয়গান নিয়ে হাজির হয়েছো---
১৫ই আগষ্টের এ নবপ্রভাতে,নবরূপে।
তোমার জয়গান মুখরিত হবে দিকদিগন্তে।
তেরঙ্গা পতাকা উড়বে জ্বালাময়ী ভাষণে।
কিন্তু হে স্বাধীনতা--------
আজকের কারবারি সমাজে তোমার ক্ষমতা,চেতনা,বিবেক---
সব লুটোপুটি খাচ্ছে চোর জোচ্চোরদের ক্ষমতার দম্ভে।
তোমার চেতনাকে ওরা করছে বিকৃত,বিবস্ত্র।
স্বাধীন হয়েও পরাধীনতার মতো ভয়ে কুঁকড়ে থাকে জনগণ।
মা বোন,পিতা-মাতা; এমনকি দুধের বাচ্চাটাও।
স্বাধীনতা মানে এখন ক্ষমতার জোর আর দম্ভের অট্টহাসি,
রাস্তা জুড়ে অশ্লীলতা,মিটিং মিছিলে চোর জোচ্চোরদের বাঁচাতে বাঁচাতে আপ্রাণ চেষ্টা।
স্বাধীনতা মানে,দু'হাতে লুটেপুটে খাওয়া আর গরিবের পেটে লাথি মেরে এগিয়ে চলা।
দায়সারা পতাকা উত্তোলনের বাহানা আর শির ফুলিয়ে রক্তচক্ষু নিয়ে ঝাঁঝালো মিথ্যে ভাষণে নিত্য নতুন আশ্বাসের বাণী মুখোশ এঁটে।
রাত পোহালেই আবার নতুন প্রতারণার ছক কষা শুরু।
রাজনীতির নোংরা খেলায় শঙ্কাভয়ে আমরা হারিয়ে ফেলছি আমাদের পবিত্র স্বাধীনতাকে।
যে নারী হাসিমুখে শুধুমাত্র পেটের জ্বালায় দুধের বাচ্চাকে একলা ফেলে রেখে রোজ রাতে সেজেগুজে দাঁড়িয়ে থাকে খদ্দেরের কামলালসা মেটানোর জন্য মাত্র কয়েকটা টাকার বিনিময়ে---
ওদের স্বপ্নে কি স্বাধীনতা তুমি এখনও বেঁচে আছো?
কবির কলম কি নির্ভয়ে লিখতে পারে,স্বাধীনতার বাস্তব জীবন ছন্দ? 
রাজদণ্ডের খাঁড়া ঝোলে তার মাথায়।হয় নির্বাসন,না হয় দেশদ্রোহী।
তবুও হার না মানা কবি ঋজু মেরুদণ্ড নিয়ে লিখে চলে--
"স্বাধীনতার বর্তমান পরিস্থিতি "বা " স্বাধীনতায় পরাধীনতা"। 
আর মুষ্টি তুলে বলে--"বন্দেমাতরম, জয়হিন্দ,মেরা ভারত মহান"।
--------------------
স্বাধীনতা- ৪৭
চোখের সামনে ভাসে
          দুলাল প্রামানিক

চোখের সামনে ভাসে শুধু
 রক্তে রাঙা সেই সে মুখ
স্বাধীন ভারত আমার কাছে
নিয়ে এলো কিসের সুখ
আমরা তো সব বন্দী পাখি 
নিয়ম- বাঁধন শৃঙ্খলে
উড়ছে যারা আকাশ জুড়ে
উড়ছে নিয়ম দিক ভুলে
বিনয় বাদল দীনেশ শুধুই 
লড়াই লড়াই করে খেলা
ক্ষুদিরাম প্রফুল্ল ভগৎ সিং
ভাসিয়ে নদে প্রাণের মেলা
মাস্টার দা আর প্রীতিলতা
গণেশ বুকে নিল গুলি
কোথায় সেসব সোনার ছেলে
কোথায় গেল তাদের বুলি
আমার বাংলা আমার দেশ 
করতে খাঁটি দেশের মাটি
বিদেশ বিভুঁই ঘুরে ঘুরে
সিঙ্গাপুরে গড়লো ঘাঁটি
রক্ত দিয়ে রক্ত ঋণে 
বাঁধল সবারে একসুতোয়
তাদের তো আজ ভুলতে নারি
যতই না আমাদের ষাঁড়ে গুঁতোয়
ঘরের ভিতর ঘরের বাইরে
মনোমালিন্য ঝগড়া ঝাটি
আছে ভালো আছেন মন্দ 
ছোঁড়ে কী সবাই ঘটিবাটি
পনেরোয় আগস্ট সুখের দিন
সবাই সাজাই স্বপ্ন ঘর
চোর ডাকাত লুটেরাদের
একসাথে সবাই মিলে ধর
আমার সামনে ভাসে শুধু
স্বপ্নের সোনালী আলো
ঘুরে ফিরে আসুক সবার
বিবিধ স্বাধীনতার ভালো
--------------------
স্বাধীনতা- ৪৮
এ কেমন স্বাধীনতা
দীপান্বিতা

এ কেমন স্বাধীনতা বীরশহিদেরা এনেছিল রক্তের বিনিময়ে,
স্বাধীনতাকে স্বৈরতন্ত্রে এনেছিল নামিয়ে দেশের শত্রুরা ৷
এ কেমন স্বাধীনতা  পরাধীনতা সব সময় যেখানে,
সবখানে শুধু চুপ হয়ে থাকা স্বাধীনতার নামে ৷
এক এক সময় মনে হয় স্বাধীনতাপ্রেমী বীর শহিদেরা বড় বোকা ছিল মনে হয়,
কত কষ্ট সহ্য করে   দেশে এনেছিল স্বাধীনতা প্রানের বিনিময়ে ৷
হায় একি স্বাধীনতা তার গুরুত্ব কে করেছে অপচয় অনাচারে কালিমাময় ৷
আজ দেশে অরাজকতার পরিস্থিতি,
শুধু স্বার্থসিদ্ধির জন্য করেছে মানবতা বিক্রি ৷
নেই মান নেই অপমান শুধু টাকা টায় সব '
এর জন্য যে কোনো মুল্যে হাত বদল সব সময় ৷
দেশের এখন বড়ো প্রয়োজন ভেতরে বাইরে শুদ্ধিকরণ,
তবেই পাবে স্বাধীনতা  আসল মুক্তি দেশে দশের জীবনে কলুষমুক্ত জীবন ৷
দুনিযার কাছে মাথা উঁচু করে বলতে পারি মেরা ভারত মহান৷ 
হিমালয় থেকে কন্যাকুমারীকা য় একই মন্ত্র বন্দেমাতরম ৷
--------------------------- 


আমাদের পদক্ষেপ পরিবার আয়োজিত বিশেষ ইভেন্ট "স্বাধীনতা"

 

বহু রক্তক্ষয়ের পর স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা ৷ ঘটেছিল দেশ বিভাজন ৷ রাজনীতির পাশাখেলায় তারপর থেকে আমরা অর্থাৎ আম জনতা নানাভাবে পিষ্ট হতে হতে হয়তো আজ 'স্বাদহীন'ভাবে স্বাধীন রয়েছি ৷ এই স্বাধীনতা কতখানি পরাধীনতা থেকে মুক্তি আর কতখানি ক্ষমতার হস্তান্তর তা নিয়েও রয়ে গেছে বিতর্ক ৷ তবু আজকের দিনটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ৷ তাই এই দিনটাকে উদযাপন করতে দেশজুড়ে গৃহীত হচ্ছে নানা কর্মসূচি ৷*

*আমাদের পদক্ষেপ পরিবারের পক্ষ থেকে আজকের দিনে পরিবারের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভকামনা ৷ পূর্বঘোঘণা অনুযায়ী আজ আমাদের এই পরিবারের যৌথ দেওয়ালে আয়োজিত হবে বিশেষ ইভেন্ট— "স্বাধীনতা" ৷ ইতিমধ্যে আপনাদের পাঠানো লেখাগুলো আমরা একে একে পোস্ট করব এখানে ৷ সেই ধারাবাহিকতা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ইভেন্ট চলাকালীন গ্রুপটি অনলি অ্যাডমিন করে রাখা হবে ৷ আপনাদের অনুরোধ, ধৈর্য রাখবেন ৷ সাথে থাকুন ৷*

----+++---

স্বাধীনতা- ২৫
স্বাধীনতা 
অমিত কাশ‍্যপ


সাধু নামটি জড়িয়ে গেছে জীবনের সঙ্গে 
তিনি জানেন না, অদ্ভুতভাবে তিনি মাথা নাড়েন
বয়সের প্রশ্নে, থাকার প্রশ্নে, স্বজনের প্রশ্নে
ভাবলেশ তাকান, যেন কিছুই হয়নি 
আশ্চর্য, দূর দেখতে চশমা পড়েন, ওই পযর্ন্ত 
দেখা, না দেখার মাঝখানে, তার অবস্থান 

পনেরোই আগষ্টে একবার এক স্কুলের সামনে 
সেও আজ অনেক বছর আগের কাহিনি 
তেরঙা পতাকা তোলার পর গান হয়েছিল 
সাধু দাঁড়িয়েছিল, কেউ কানের কাছে মুখ নিয়ে 
বলেছিল, কি দেখছ, চশমা খুলেছিল, শূন্য দৃষ্টি 
শালপাতায় কিছু খাবার, কেউ দিয়েছিল, শূন্য দৃষ্টি 
হেডস‍্যার বলেছিলেন, স্বাধীনতা সংগ্রামে সব গেছে
ওর নাম জ‍্যোতির্ময়, স্বাধীনতার জ‍্যোতি
সাধু নামটা কেমনভাবে জড়িয়ে গেছে 
আমরা এমন সাধু কটাকে চিনি যাঁরা হঠাৎই 
বলে উঠবে, মেরা ভারত মহান
-------------
স্বাধীনতা-২৬
স্বাধীনতা তুমি
মঞ্জু বন্দ্যোপাধ্যায় রায়

পঁচাত্তর বছর আগের স্বাধীনতা 
বীর দর্পে বেজে ওঠে জয় হিন্দ বন্দেমাতরম
লন বলসে সোনায় সোহাগা ভারতবর্ষ।
তুমি কি স্বাধীন ? আজ কোনো প্রশ্ন নয়।
আজ পঁচাত্তর বছরের স্বাধীনতা উপলব্ধির স্বাধীনতা।
আত্মবলিদান মিশে গেছে টাকা মাটি মাটি টাকাতে।
স্বাধীনতা তুমি হর্ট শর্টসে ককটেলে পার্কস্ট্রিট ।
করুন শিশু খালি গায়ে তাকিয়ে কাঁচের ভিতর ঝাঁ চকচকে পোশাকের দিকে। 
এম. এ  কিংবা বি .এ, পাশ ম্যানগ্রোভ বাঁচিয়ে জোয়ারে 
মশারির জালে ব্যস্ত বাগদা পোনা ।
ন্যায্য অধিকার লুট হয়েছে সিংহাসনে
স্বপ্ন নেমে এসেছে রাজপথে।
কবিতা নয় গল্প নয় জীবন স্মৃতি লেখা হচ্ছে গামছা বাঁধা পেটে।
দেশ মাতৃকা তুমি ধন্য, অবলা জীব মানুষ এখন পণ্য।
এর পরে কি বলে দিতে হবে ছাপোশার কি মাথাব্যথা
কেমন আছো , কেমন ই বা থাকবে তুমি  স্বাধীনতা।
------------------
স্বাধীনতা- ২৭
স্বাধীনতা
বনবিহারী কুমার 

          স্বাধীনতা

স্বাধীনতা মানে স্বৈরাচারের নাম
স্বাধীনতা মানে বেপোরয়া সব কাম 
স্বাধীনতা __  স্রেফ স্বাধীনতা ,
সমন্বয়ের নামে ধাপ্পার তোষণতা ।।
স্বাধীনতা মানে অধিকার কেড়ে নেওয়া 
স্বাধীনতা মানে প্রাণে মেরে ফেলে দেওয়া ,
স্বাধীনতা __ স্রেফ স্বাধীনতা ,
ধর্মের নামে চলে হিংসার প্রবনতা ।।
স্বাধীনতা মানে মাফিয়াবাজীর মেলা
স্বাধীনতা মানে দখলদারীর খেলা ,
স্বাধীনতা __ স্রেফ স্বাধীনতা ,
একের স্বার্থ খর্ব করার জঘন্য রসিকতা ।।
স্বাধীনতা মানে প্রাচীণতা মুছে ফেলা 
স্বাধীনতা মানে জাতীয়তা বেচে ফেলা ,
স্বাধীনতা __ স্রেফ স্বাধীনতা ।
হৃদয়ে হৃদয়ে শুধু ঘোরতর দূষণতা ।।
 এরই নাম কি স্বাধীনতা  ?
--------------
স্বাধীনতা- ২৮
 হকের রাখী
আর্যতীর্থ


স্বাধীনতা,  রাখী বাঁধো ভারতের  হাতে,
পৃথিবীর শেষ তক থেকো একসাথে।
আমার তেরঙা হোক তোমার তিলক,
ভারতীয় হলে হোক এই রাখী হক। 

এখনো তোমার বাসা নেতাদের ঘরে,
আসোনি সময় করে জনতার স্বরে,
বেখাপ্পা কথা হলে খাপ্পা রাজারা,
বিচারের আগে দেন আজীবন কারা। 

স্বাধীনতা, তুমি আজও বড় ধনী-ঘেঁষা 
গরীবের সাথে নেই মোটে মেলামেশা,
ধনহীন জানে কেউ শুনবে না কথা,
তার বাক-স্বাধীনতা প্রাক-স্বাধীনতা। 

তবু ওগো স্বাধীনতা, ছাড়ছি না হাল,
আমার আঙনে তুমি আসবেই কাল।
ভূমিহীন  আদিবাসী প্রান্তিক লোক 
আশা রাখি একদিন ওঠাবেই চোখ।

আশা রাখি একদিন ভোট এলে দেশে,
ভাষণ হবে না আর শুধু একপেশে।
ফুঁড়ে দিয়ে তোতাবুলি  প্রগতির চোথা,
শ্রোতারা আওয়াজ দেবে হাতে কাজ কোথা? 

কোনটা দেশপ্রেম কোনটা চালাকি 
একদিন জনগণ ধরবে সে  ফাঁকি,
স্বাধীনতা, আছি  আজও সেই আশা করে
একদিন দেখা দেবে গরীবেরও ঘরে ।

পরাও দেশকে রাখী তার হাত ধরে 
ওগো স্বাধীনতা।
আগামীতে চোখ যেন ঠিক দিকে ঘোরে..
------------------
স্বাধীনতা- ২৯
এ কোন স্বাধীনতা। 
শিবেশ মুখোপাধ্যায়


সকাল থেকে আজ অন্যরকম 
হাওয়া বইছে। মনে প্রাণে শিহরণ 
জাগাচ্ছে... 
এক অনাবিল আনন্দে ভরে যাচ্ছে 
স্বাধীন ভারতবাসীর মন। 
আকাশে পতপত করে উড়ছে 
তিরঙ্গা পতাকা। 
আজ ১৫ই আগষ্ট 
ভারতবর্ষের ৭৫ তম স্বাধীনতা দিবস। 

আকাশে বাতাসে বাজে 
     'সারে জাঁহাসে আচ্ছা '
নৃত্য, কবিতায় গানে আর ভাষণে
      মেতে ওঠে বুড়ো থেকে বাচ্চা। 
আজ দিনটা আচ্ছা, বহুত আছে। তবু, আমরা কি স্বাধীন 
আমরা কি সাচ্চা??

পরাধীনতার নাগপাশ ছিন্ন করতে 
ঝাঁপিয়ে পড়েছিল যুবশক্তি।
চেয়েছিল মায়ের সম্মান বাঁচাতে 
শৃঙ্খলমুক্ত করতে ভারত মাতাকে। 

আজ দিকে দিকে অসহায়  
শিশু বৃদ্ধ, মাতা ভগ্নীদের কান্নায়
ভরে উঠেছে সুনীল আকাশ 
মেঘমুক্ত শরতের আকাশ 
ছেয়ে গেছে বারুদ দূষণে,
বিষবাষ্পে। 

তোমার পায়ের নিচে আজও রক্তগঙ্গা। শৃঙ্খল তোমার হাতে পায়ে। রক্তক্ষয়ী সংগ্রাম ভায়ে ভায়ে। 

বিনয়- বাদল - দীনেশ - ক্ষুদিরাম
হলদিঘাট,বুড়িবালাম--
তোমার বুকের মধ্যে দুভাগ করা
দু-টুকরো দেশ। 

স্বাধীন ভাবে রাস্তায় বেড়ানো
সৎ-চিন্তা,সৎ-বাক্য এখন দুর্বোধ্য। 
অফিস -কাচারি, আদালতে 
ন্যায়বিচার আজ পর্যুদস্ত। 

এত বছর বয়স হ'ল তোমার স্বাধীনতা। তবু আজও তুমি অবগুণ্ঠিতা।তাই আমরা দৃষ্টিহীন
অথচ 'চোখে আঙুল দাদা'। 
আমরা তাই আজও পরাধীনতার নাগপাশ মুক্ত হতে পারিনি। 
স্বাধীনতা দিবস আজ তাই  শুধু 
উৎসবের  দিন।।
----------------
স্বাধীনতা- ৩০
আমি শহীদের মা
মিতালী মুখার্জী

দেশের মাটির ঋণ  বলো শোধ কি করা যাবে?
আমি না পারলে পারবে তুমি , চেষ্টা করতে হবে।

বলিদান চায় আজকের দেশ।
বারবার  তারা বদলায় বেশ
পুলমা বা উরি, কেন কারগিল!
আমাদের ছেলে মরে তিল তিল! 
নয়নের মনি ঘরে ফেরেনি সে, 
নীরব, নিথর প্রিয়া জাগে বসে
ছেলে বলে ,-বাবা ফিরছে না কেন?
মায়ের দুচোখ খুঁজে ফেরে যেন
পরমবীরের মেডেলটা নিয়ে
ছানিপরা তার দুটি চোখ দিয়ে 
আতিপাতি খোঁজে খোকার গন্ধ
সরকারি ভাতা হয়েছে বন্ধ।
মেডেলকাগজ কী হবে এ সবে? 
কেউ একখানি কাপড় কি দেবে? 
বৌমার আমি লজ্জা ঢাকবো,
 ছেলেটার মুখে দুটি ভাত দেব।
তিরঙ্গা ঢেকে এনেছিল তারে 
অমন ই কাপড় একটা দে না রে, 
এসে গেল শীত, পারি না রে আর
বুক ভেঙে শুধু ওঠে হাহাকার।
খোকা বলেছিল ,আসলে এবার 
কাশী নিয়ে যাবে, যাবো নারে আর।
শুধু একবার তুই ফিরে আয় ওরে
দেখ খোকা তোর পরে আছে জ্বরে।
নেই তো ওষুধ ,পথ্য ও নাই।
কত কথা বলে মন্ত্রীমশাই,
তুই চলে গেলি চলে গেল সব,
যত কোলাহল হয়েছে নীরব‌।

তবু হারব না ,আমি বেঁচে রব।
খোকা বড় হলে তাকেও পাঠাবো।
দেশের জন্য সে ও দেবে প্রাণ। 
দেশের  মাটি যে চায় বলিদান।
আজকের দেশ চায় বলিদান
আজকের দেশ চায় বলিদান।
------------------ 
স্বাধীনতা-৩১
স্বাধীনতা দিবসের আলোর পথ 
নরেন্দ্রনাথ নস্কর

স্বাধীনতা শুধু একটি শব্দ নয়, 
স্বাধীনতা মানে মুক্তির বায়ু বয়; 
অনেক বাধা অনেক সমালোচনা,
তবু বলব, স্বাধীনতার হোক জয়।

কি পেয়েছি, কি বা পাইনি এ দেশে,
কিছুতো সাদা, বহু কালোর মাঝে;
উপনিবেশের দীর্ঘ শাসন শেষে,
যা পেয়েছি পথে, তাতে আনন্দ রাজে।

 দোষ ক্রুটি যত, এই মাটিতেই হোক, 
এর অবসান হবে এ আশা পোষণ করি;
কর্মের ফল কেহ খণ্ডাতে নারে,
নতুন আলোতে শুদ্ধ করবেন, শ্রী হরি।

পিছন ফিরে দু:খ পেয়ে লাভ নেই,
যেটুকু ভাল, সেই নিয়ে পথ চল;
খারাপ যত যাবে ধুয়ে একদিন,
স্বাধীন মনে আনন্দ দীপ জ্বাল। 

অনেক রক্তে, অনেক দুঃখ ঝরে,
স্বাধীন হয়েছে, ভারতের মাটি, জল;
মাতৃভূমির সম্মানে কিছু করে,
দেশবাসির মুখ কর উজ্জ্বল।

ভাল টুকু নিয়ে, খারাপ ছুড়ে ফেলে,
এগিয়ে চল ভালর পথ ধরে;
ত্রিবর্ণ পতাকা চির উড্ডীন রাখ,
দেশাত্মবোধ জাগাও প্রতি ঘরে।

জয় হোক এই ভারতের, ভাই,
শুভ চেতনা আসুক, প্রতি মনে;
ভারতবর্ষ মোদের মাতৃভূমি,
রক্ষা করা চাই দেশ, মায়ের টানে। 

সততার সাথে শপথ করি সবাই,
দেশের ঘরে আছে যত বোন ও ভাই;
ভারত দেশের সম্মান সবার আগে,
মন প্রাণ দিয়ে সেবা করব সবাই।

যাহা আছে ভাগ করে নেব,খুশি মনে,
দুঃখে, সুখে পাশে থাকব সবার;
বঞ্চিত যেন না হয় আর্ত কেহ;
অন্যায়, অবিচার শেষে মানবেই হার। 

ভারতকে মোরা এগিয়ে নিয়ে যাব,
বিজ্ঞানে, সাহিত্যে, শিল্পকলা, দর্শনে;
প্রতি নরনারী উপকৃত হবে,
ভারত একদা উন্নত হবে মননে।

খাদ্য, শিক্ষা, স্বাস্থ্যের নিশ্চয়তা
পাবে একদা, আপামর দেশবাসী;
স্বপ্ন সেদিন বাস্তব হবে, এ দেশে,
ভারতমাতার মুখে ফুটবে হাসি।

জয় হোক এই ভারতের ভাই,
সত্যি মোদের একটাই পরিচয়,
বিভেদ আর প্রাদেশিকতা ভুলে;
ভারতবাসি করুক এই বিশ্বজয়।

নতুন দিনে আবার শপথ করি,
মোরা স্বাধীনতার রাখব সম্মান;
সত্যের পথে, সেবার পথ ধরে,
ভারত মায়ের গাইব জয় গান।

রক্ষা করব ভারতের স্বাধীনতা,
বহিশত্রুর করব মোকবিলা;
সুরক্ষিত থাকবে  ভারত মাতা,
এই শপথে আনন্দে পথ চলা।
---------------
স্বাধীনতা- ৩২
স্বাধীনতার শপথ
    সুভাষচন্দ্র ঘোষ
          
       অনেক বন্ধুর পথ পেরিয়ে
       শহীদের তাজা রক্ত ঝরিয়ে
       পেয়েছি অমূল্য ধন স্বাধীনতা।
       দুশো বছরের পরাধীনতা গ্লানি
       সহজে স্বরাজ আসেনি জানি
       ক্ষমা কর জাতির এ দূর্বলতা ।।

       ভারত আজ হয়েছে স্বাধীন
       আজ  নই মোরা পরাধীন
       পনেরোই আগষ্ট সেই শুভদিন।
        ত্রিবর্ণ পতাকা পত্পত্ উড়ে
        জাতীয় সঙ্গীতের মধুর সুরে
        শোধিতে হবে শহীদ রক্ত-ঋণ।।

        আজ নিতে হবে কঠিন শপথ
        মসৃণ চলুক গণতন্ত্রের রথ
        সম্মুখের বাধা বিপত্তি মাড়িয়ে ।
        দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ
        সীমান্ত-সৈন্যের আত্ম-বলিদান
        দেশরক্ষা করে বহিঃশত্রু হারিয়ে।।

        ভারত হোক সবদিকে সেরা
        মাতৃভূমি স্বপ্ন দিয়ে ঘেরা
        চিরদিন থাকে যেন উন্নত শির।
        থাকবে না কোন  অবিচার
        জাগ্রত জনতা করবে বিচার 
        মোর ভারত হোক শান্তির নীড়।।
----------------------
স্বাধীনতা-৩৩
ওপারে ক্ষুদিরাম
 তমাল কুন্ডু

স্বাধীন ভারতবর্ষের
স্বপ্নদেখা চোখ দুটো
আজও চেয়ে আছে চাতকের মতো
গলায় দগদগে ফাঁসির ক্ষত
ছড়িয়ে পড়ছে যেন সারা শরীরে
যন্ত্রণাকাতর মুখে তাঁর একটাই প্রার্থনা
অঙ্ক স্যারকে জন্মাতে হবে আর একটিবার
ভারতমায়ের কোলে
তৈরি করে দিতে হবে আবার
কোটি কোটি নির্ভীক ক্ষুদিরাম
যাতে স্বাধীনতা সংকটে না পড়ে
আরেকবার।
-------------
স্বাধীনতা-৩৪
স্বাধীনতার খোঁজে
কান্তীশ

তুমি বলেছিলে নেতাজী ,
আমরা রক্ত তো অনেক দিয়েছি ,
তবু স্বাধীনতা কেন পেলাম না ?
চুপ রও যত বিশ্বাসঘাতক,
কার রণহুঙ্কার শুনতে পেলাম ,
তোমরা ভাইয়ের রক্ত দিয়েছ ,বোনের রক্ত দিয়েছ;
মায়ের রক্ত দিয়েছ ,স্ত্রীর রক্ত এমন কি সন্তানের রক্তও;
নিজের রক্ত দাও নি কেনোদিন ।
ব্যারাকপুরের কারাগারে তোমরা বিশ্বস্ত
সেনানীর গণহত্যা ঘটিয়েছ ,
লালকেল্লায় করেছিলে তাদের বিচার;
তোমরা স্বাধীনতার যোগ্য নও ।
চমকে উঠলাম ।সত্যি তো কোনোদিন নিজের এক ফোঁটা রক্ত দিই নি ।স্বাধীনতাও পাই নি ।

নেতাজী ,ফিরে এসো ,আর একবার -আর
একবার উদাত্ত কণ্ঠে সে ডাক দাও -তোমরা আমাকে রক্ত দাও ,আমি তোমাদের
স্বাধীনতা দেবো।
এবার নিজের রক্ত দেবো ।
 স্বাধীনতা আমাদের চাই।
-------------------
স্বাধীনতা- ৩৫
স্বাধীনতা বনাম একটি রাষ্ট্র
  শ্রীঅভিষেক অধিকারী

স্বাধীনতা বনাম একটি রাষ্ট্র
  শ্রীঅভিষেক অধিকারী

পাথরের দেওয়াল গিলে খেতে চাইছে কাগজের মানুষগুলোকে।
ক্ষমতার দম্ভ গ্রাস করে নিয়েছে টিনের পুতুল খেলার ঘর।
সিরিয়ালের চরিত্রগুলোর অমানবিক আস্ফালন যায়গা করে নিচ্ছে মানব মস্তিষ্কের ধূসরতম অংশে।
রিয়েলিটি শো এর প্রতিভার দম্ভ ভেঙে গুঁড়িয়ে দিচ্ছে আদিম সরলতা।

স্বাধীনতা আমাদের অধিকার!
শব্দের সরলতম বহিঃপ্রকাশকে টেনে ছিঁড়ে দিচ্ছে শব্দভেদী বান।

বিপ্লবীদের শত শত তাজা রক্ত পান করে চলেছে আধুনিক পাথুরে সভ‍্যতা।

হ‍্যাঁ আমরা স্বাধীন!
বিপ্লবীদের স্বপ্নের দেশ আজ পুরাবস্তুর সংগ্রহশালা।
লক্ষ‍্যহীন মানুষের মুখ দেখে আজ আর জল আসে না 
কোন পাথরের দেবতার চোখে।

স্বাধীনতার পতাকাধারীর পতাকা ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে উদ্ধত বুলেটের চাপে।

তবুও সব‍্যসাচীরা আজও আছে
বনজঙ্গল আজও তাদের কাছে রাজপথ।
নদী সাঁতরে তাদের আজও পার হতে হয়।
 
সব‍্যসাচীদের কাছে শহর এক নিষিদ্ধ স্থান।
রাষ্ট্র তাদের কাছে চিরাচরিত ব‍‍্যঙ্গের পাত্র।
তবুও সব‍্যসাচীরা লড়ে যাবে,
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে।

রাষ্ট্র বনাম ব‍্যক্তি,
স্বাধীনতার উপহারে ভূষিত রাষ্ট্র হেঁটে চলে
ঘন মানব জঙ্গলের উপর দিয়ে।
ব‍্যক্তি ছুটে চলে রেসের মাঠে,
 আরো হাজার হাজার ব‍্যক্তির শরীক হয়ে। 

গর্বিত পেশী হয়ে ওঠে রাষ্ট্রীয় কুচকাওয়াজের শরীক।
আত্মশক্তি হারানো ব‍্যক্তি বিলাপ করে চলে শূন‍্য আকাশের নীচে।

একটা স্বাধীনতা বিচার করে চলে রাষ্ট্রের, ব‍্যক্তির।
সব‍্যসাচীরা এসে দাঁড়ায় মানবতাবাদের ছায়াতলে। 
ব‍্যক্তির মুক্তি হয়ে ওঠে স্বাধীনতার তপস‍্যা।
-----------------------
স্বাধীনতা- ৩৬
 সবার ঘরে 
আর্যতীর্থ

ত্রিবর্ণ যাক ঘরে ঘরে । 
দরজা  টোকায় আলতো করে,
সবার কানে বলুক না সে ,
 যে দেশ তুমি ভালোবাসো ,
 সে দেশ তোমায় ভালোবাসে।

ত্রিবর্ণ যাক সেনার বাড়ি। 
পায়নি ছুটি, তবুও ফেরত তাড়াতাড়ি,
চার সাথী তার কাঁধে করে আনলো যেদিন কফিন বয়ে,
সেদিন যেমন জড়িয়েছিলো কৃতজ্ঞতার চাদর হয়ে,
তেমনি স্নেহে, সেই মমতায়, 
মা বাবা আর বৌকে যেন ত্রি-রঙ শুধায়,
দেশের জন্য গেছে ছেলে, 
সান্ত্বনা তার নয় মেডেলে,
গেলে অমন সোনার বাছা, 
তারপরে খুব কঠিন বাঁচা, সেটা জানা।
তবুও শুনি , সুবিধা সব পৌঁছেছে তো এই ঠিকানা,
 কমপেনশেসন ও পেনশনে চলছে তো দিন যেমন উচিৎ?
 নাকি রাঙা ফিতের ফাঁসে শহীদ-বাড়ির নড়বড়ে ভিত, 
বলুন খুলে। 
দেখতে হবে, রক্তদানের সে ঋণ যেন সহজে দেশ না যায় ভুলে।

যাক তেরঙা চাষীর কুটির, দাওয়ায় বসুক। 
জিগেস করুক কিসের অসুখ,
অন্ন ঘরে রয় না কেন অন্নদাতার ভর-ফসলেও,
জিগেস করুক কর্জ নিলে ঠিক কত তার সুদ প্রদেয়। 
চারপায়াতে ছড়িয়ে বসে চুমুক দিয়ে চায়ের গ্লাসে, 
জানুক তে-রঙ সময় মতো সরকারি কী সহায় আসে,
 দাম কত পায় রক্তকে জল করে ফলা গম বা ধানে,
ত্রিবর্ণ সেই গুপ্তকথা শুনুক কানে, 
শোনেননি যা  কোনো শাসক গত সাড়ে সাত দশকে,
ফলিডলের খালি শিশির কেবল জানা
মরলো চাষা কিসের শোকে। 

যাক পতাকা গাঁয়ের স্কুলে। 
ময়লা ছেলে এবং মেয়েরা নামতা পড়ে দুলে দুলে,
শিখছে কী তা কেই বা দেখে।
হদ্দ গরীব ছোট্ট থেকে, খিদের সাথে রোজ সহবাস, 
শিশু শ্রমিক কথার মতো নেই উপহাস, 
সবাই জানে কোন দোকানে কাদের ঘরে 
বারোর কমে, দশের কমে, আটের কমের বালক এবং বালিকাদের খাটায় ধরে, 
যাক গে সে সব  ছেদো কথা, 
পঁচাত্তরে স্বাধীনতা,
ব্যাপার বিশাল, দেড়শো কোটি পা মেলাবে এক মিছিলে,
ত্রিবর্ণ স্রেফ একটা কথাই নিক না জেনে গাঁয়ের স্কুলে..
বল না বাছা, ডিম ছিলো তোর মিড ডে মিলে? 

ত্রিবর্ণ যায় , ত্রিবর্ণ যায়, 
এইবারে সে চললো কোথায়, 
তিনটে রঙের খোঁজ বেদনায় 
কোন নাগরিক কাজ হারালো,
চকচকে সব শহর ছেড়ে, বস্তিতে সে পা বাড়ালো।
যাক ওখানে যাক তেরঙা ,
  ভোলাক দেশের কুমীরডাঙা,
সেই যে সে এক লকডাউনে লাখো মানুষ হাঁটলো পথে,
রাজ্য এবং কেন্দ্র তাদের দায় নিলো না কোনোমতে,
দেশের ভেতর দেশের মানুষ 
নাম কুড়ালো পরিযায়ী,
যদিও ভোটার আধার নথির 
ফটোতে মুখ দিব্যি স্থায়ী।
কাজ ফিরেছে কয়েকজনের, 
কয়েকজনে ফেরেইনি আর,
নামবিহীনে বিলীন হলো বেকার করে ভোটার আধার,
দাঁড়াক এবার বাকির পাশে 
ভরসা হয়ে তিনখানা রঙ,
দেশপ্রেমের ভড়ং ছেড়ে ওদের কানে বলুক বরং,
পাল্টাবে দেশ এবার থেকে, 
দেড়শো কোটি পিছে রেখে
দেড়শো লোকের ধনী হওয়া চরম ক্ষতি,
সব নাগরিক কাজে গেলে 
তবেই দেশে আসতে পারে ঠিক প্রগতি।

খুলুক গিয়ে ত্রিবর্ণ সেই বাড়িতে গেট,
পেট চালাতে ডোম যেখানে পোস্টগ্র্যাজুয়েট। 
টেট পাশের ওই মুক্তো ঝুটো, 
করলো যাদের বছর ঠুঁটো,
তাদের পাশে ,  
খুব আশ্বাসে দাঁড়াক গিয়ে তেরঙাটি,
ন্যায্য দাবীর শান্ত ভিড়ে নামে যখন পুলিশ-লাঠি,
 থামাক তাদের,
লাল গেরুয়া মা মাটি নয়,
 ত্রিবর্ণ আজ আস্কারা দিক শিরদাঁড়াদের।
সাড়ে সাতটা দশক ধরে, সুপারিশ আর কোটায় ভরে , 
যোগ্যতাকে করলো এ দেশ রঙতামাশা, 
কাটবে এবার সেই কুয়াশা, 
সেই আশাতে দিক না আওয়াজ আজ পতাকা,
তা নইলে আর কিসের জন্য 
নাগরিকের আগামীতে তাকিয়ে থাকা?

দেড়শো কোটির ঘর ঘুরে সব কুশল নিলে,
তবেই তো দেশ গড়তে পারি সবাই মিলে। 
তা নইলে স্রেফ ডি পি বদল কয়েকদিনই,
তারপরে সেই একই নাটক, যেমন চিনি।
পাহাড়চুড়োয় যাওয়ার দিকে লক্ষ্য হলে
মেরামতি করতে যে হয় ভুঁই-ফাটলে,
 সে তথ্য তো ইতিহাসের কাছেই শেখা,
দেশ মানে এই দেড়শো কোটি, কেউ না একা।
দেখতে হবে কোথায় আছে কী নড়বড়ে,
সামনে সুযোগ, সামলে নিতে পঁচাত্তরে।

ফাটল বুজে উঠবে এ দেশ নতুন গড়ে,
ভরসা দিতে তেরঙা যাক সবার ঘরে।
-------------------------- 

আমাদের পদক্ষেপ পরিবার আয়োজিত বিশেষ ইভেন্ট "স্বাধীনতা"



বহু রক্তক্ষয়ের পর স্বাধীনতা পেয়েছিলাম আমরা ৷ ঘটেছিল দেশ বিভাজন ৷ রাজনীতির পাশাখেলায় তারপর থেকে আমরা অর্থাৎ আম জনতা নানাভাবে পিষ্ট হতে হতে হয়তো আজ 'স্বাদহীন'ভাবে স্বাধীন রয়েছি ৷ এই স্বাধীনতা কতখানি পরাধীনতা থেকে মুক্তি আর কতখানি ক্ষমতার হস্তান্তর তা নিয়েও রয়ে গেছে বিতর্ক ৷ তবু আজকের দিনটা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক ৷ তাই এই দিনটাকে উদযাপন করতে দেশজুড়ে গৃহীত হচ্ছে নানা কর্মসূচি ৷*

*আমাদের পদক্ষেপ পরিবারের পক্ষ থেকে আজকের দিনে পরিবারের সকলকে জানাই আন্তরিক শুভকামনা ৷ পূর্বঘোঘণা অনুযায়ী আজ আমাদের এই পরিবারের যৌথ দেওয়ালে আয়োজিত হবে বিশেষ ইভেন্ট— "স্বাধীনতা" ৷ ইতিমধ্যে আপনাদের পাঠানো লেখাগুলো আমরা একে একে পোস্ট করব এখানে ৷ সেই ধারাবাহিকতা যেন ক্ষুণ্ণ না হয়, সেজন্য ইভেন্ট চলাকালীন গ্রুপটি অনলি অ্যাডমিন করে রাখা হবে ৷ আপনাদের অনুরোধ, ধৈর্য রাখবেন ৷ সাথে থাকুন ৷*
----+++---
স্বাধীনতা- ১৩

ঋণ শোধ 

ডা. মধুমিতা ভট্টাচার্য


দেশের স্বাধীনতা এলো 

বিপ্লবীদের রক্ত ঝরা সংগ্রামে-

বিদেশী শক্তি বিদায় নিল

শত শত সংগ্রামীদের জীবনের দামে ।


বলত - সত্য,নিষ্টা,দেশপ্রেম

আছে কি এখন শাসকের কাজে?

খাদ্য,ব্স্ত্র,বাসস্থান

আছে কি সব দেশবাসীর মাঝে!


স্বাধীন দেশের নাগরিকের

এমন কেন হাল!

এত বছর পরেও কেন

সুশাসনের আকাল!


রক্ত ঝরা স্বাধীনতার-

এই কি মূল্যবোধ ?

কেমন করে করব মোরা 

শহীদদের ঋণ শোধ?

--------------- 

স্বাধীনতা- ১৪

স্বাধীনতা

অভিজিৎ দত্ত 


স্বাধীনতা তোমাকে প্রণাম 

তুমি ছাড়া জীবন 

মৃত মানুষের সমান। 


হে স্বাধীনতার রবি

তোমাকে অন্ধকারে নিয়ে যেতে 

চেয়েছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তি

নিপীড়িত জনগণ 

বুঝলো যখন তোমার মর্ম 

ঝাঁপিয়ে পড়লো স্বাধীনতার জন্য। 

তবু দুঃখ হয় 

যখন দেখি স্বাধীন দেশগুলোর 

জনগণ অভুক্ত রয়। 

এই স্বাধীনতার জন্যই কী 

এতো লড়াই?


দেশের জনগণ 

যদি না থাকে ভালো 

তবে সেই স্বাধীনতার কী মূল্য?

আমাকে বুঝিয়ে বলো।

------------------

স্বাধীনতা- ১৫

স্বাধীনতা র ৭৫ বছরের আমরা 

সত্যেন্দ্রনাথ পাইন। 


   স্বাধীনতা হীনতায় কে বাঁচিতে চায় হে 

       কে বাঁচিতে চায়

   দাসত্ব শৃংখল বলো কে পরিবে পায় হে 

       কে পরিবে পায়!? 

 ৭৫ বছর হলো আমরা বৃটিশ শাসনের থেকে মুক্তি পেয়েছি। যার নাম দিয়েছি স্বাধীনতা। ১৯৪৭ সালের ১৫ আগষ্ট রাত ১২ টার সময় থেকে আমরা স্ব স্ব  সরকারের অনুশাসনের মধ্যে নিজস্ব সংবিধানের অধীনে আছি। যে সংবিধান তৈরি করেছেন ডঃ বি আর আম্বেদকর নামে আমাদের দেশেরই এক বিশিষ্ট ব্যক্তি। তারপর যদিও বেশ কিছু বছর আমরা কমনওয়েলথ ভুক্ত দেশ হিসেবে পরিচিত ছিলাম! বৃটিশ সরকারের অনুমতি ব্যতীত আমরা কিছুই করতে পারতাম না। সেটি এখন আর নেই যদিও। পি এল ৪৮০ চুক্তিও আমরা বর্জন করতে পেরেছি-- মাননীয়া প্রয়াত  প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর সময় থেকেই।  এখন আমরা অর্থনৈতিক ভাবেও স্বাধীন। 

   কিন্তু কথা হলো ৭৫ বছরের এই স্বাধীনতা কি আমাদের যথেষ্ট দিতে পেরেছে! উত্তর বোধহয় না ই হবে। আমরা সুদীর্ঘ সংবিধান তৈরি করেও শুনেছি-- Indian Constitution is nothing but a big cypher.   এক বিশিষ্ট সমালোচক বলেছেন। আমাদের সংবিধান পড়লে জানতে পারি-- বিভিন্ন দেশের মধ্যেকার কিছু ধার নিয়ে রচনা করেছি। আমেরিকার মতো রাষ্ট্রপতি রেখেছি( ক্ষমতাহীন), ব্রিটিশ পার্লামেন্ট আদলে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা তৈরি করেছি। আমরা যার নাম দিয়েছি পার্লামেন্ট ( নিম্নতর কক্ষ) এবং রাজ্যসভা ( উচ্চতর কক্ষ) । এছাড়াও অনেক কিছুই আমরা অন্য দেশের বিভিন্ন ধরনের জিনিস নকল করেছি। যার ফলে সংবিধান বিশাল বপু নিয়ে হাজির হলেও অনেকটাই নিশ্চিত হয়নি।  তাই  অনেকে সমালোচক   এর বিরুদ্ধেই বলেছেন-- ।  এছাড়াও আমরা খাঁচায় বন্দী পাখির মতো এখন আছি। আমরা কি প্রকৃত স্বাধীনতা পেয়েছি! আমরা না পেরেছি নিজের মতো কিছু করতে, না পেরেছি নিজস্বতা বজায় রাখার পূর্ণাঙ্গ স্বাধীনতা পেয়ে কিছু করতে।

-------------------

স্বাধীনতা- ১৬

স্বাধীনতার অমৃত

নবকুমার দাস


কথা ছিল আজাদির অমৃত পৌঁছে যাবে দেশের প্রতিটি কোনায়। 


যা ঘটেছে তা আপনি ও আমি ভালোই জানি । 

ফোঁটা ফোঁটা উন্নয়ন এবং বিকাশের বিমোহিত মন্ত্র চারিয়ে যাচ্ছে শিকড়ের আরো গভীরে। 


কী বাণী দিয়েছেন বাওয়া!

দেবতা ও অপদেবতায় জমে উঠেছে খেলা । 

হর কোনে মে ।

ওহ্ লাভলি, কী অপার মহিমা !

গরলের বাষ্প মেঘ থরে থরে জমে উঠেছে উহাদের ঘরে। 



রহিমুদ্দি মিঞা আর রামা কৈবর্ত লড়ে খাবে খুঁদকুঁড়ো

ইহাই কৌটিল্য বচন।

মেরে ফাঁক করে যাক - উহারা। 

ইহা উহাদের নির্বাচনগত অধিকার।  

তুমি বাপ , মহা পাপ উচ্ছিষ্টভোগী আম জনতা 

কুত্তার লেজের ডগায় চুলের উপর   এটুঁলি ।

ঢুলু ঢুলু চোখে ছানি, তবু তুমি খোঁজ নাও লাল কিল্লার,চৌদ্দ পনের বিয়াল্লিশ তলার ! 


আমরা তো সব্বাই পবন নন্দন, লাঙ্গুলচৌষ্য মুখপোড়া !


উহারা রামচন্দ্র,আকবর বাদশা,দয়ার সাগর ! 


হে মহান ফুয়েরার! জনগণের টুঁটি টিপে জনতার সেবা , আহা কি চমৎকার। 

চোপ , আদালত চলছে ! 

তন্ত্রমন্ত্রের জগমগানি ঘুম পাড়ানিয়া গান ।


তবুও কোথাও অমৃতকথা। অমর মানুষের স্মৃতিকথা , নতুন শপথ ।


উহাদের ত্রাস ও তাসের খেলার পরে আবারো আজাদি। সাচ্চা ই সামনা। 

গেট রেডি সহনাগরিক। 

গেট লস্ট মহামহিম ।

আমরা খেটে খাওয়া আম আদমি 

আমাদের সরল স্বপ্ন, রোটি মকান কাপড়ার লড়াই।  

বিমূর্ত ফ্যাসিবাদের মুর্তির সিমবায়োটিক মসিহার তলপেটের  নীচে দমাদ্দম মস্ত কালান্দর ক্যাল ...

হতচ্ছাড়ার পাতে বিছুটি পাতার ঝোল আর  ...


থাক সেই সব কথা, 

এখন গাওয়া যাক "মুক্তির মন্দির সোপান তলে ... " ইত্যাদি ইত্যাদি

এবং  "মা তুঝে সালাম ..."

-------------------

স্বাধীনতা- ১৭

স্বাধীনতা মানে কি

রোকিয়া


মাগো স্বাধীনতা মানে কি?

জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুধু মিষ্টি খাওয়া

ঐ আকাশে উড়ছে তিন রাঙা পতাকা;

খিদের চোটে এখনো আমার পেট ব্যাথা

রোদ ঝড় বৃষ্টিতে ঘুম আসে না ...

খাতা-কলম হারিয়ে আমি

হয়েছি ফুটপাতের হকার বালা,

এটাকে কি বলে পূর্ণ স্বাধীনতা।


মাগো স্বাধীনতা মানে কি?

জাতীয় পতাকা উড়িয়ে শুধু মিষ্টি খাওয়া

ঐ আকাশে উড়ছে তিন রাঙা পতাকা;

খিদের চোটে এখনো আমার পেট ব্যাথা

রোদ ঝড় বৃষ্টিতে ঘুম আসে না ...

খাতা-কলম হারিয়ে আমি

হয়েছি ফুটপাতের হাকার বালা,

এটাকে কি বলে পূর্ণ স্বাধীনতা।


মাগো তোমার বুকে এখনো রক্ত নদী বয়ে চলে 

হাজারো যুবক প্রাণ বলি দেয় কারনে অকারনে,

তোমার মেয়ের পায়ে শিকল বেড়ি বাঁধা

তালাবদ্ধ ওই অন্ধকার ঘরে ...;

মাগো এটাই কি স্বাধীনতার পূর্ণ মানে।


ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে আনি এক টুকরো রুটি

হাসপাতালে করছি আমরা লুটোপুটি,

রক্তে রাঙা স্বাধীন ভারত

তবুও আমরা অসুস্থ হলে রক্ত মেলেনা;

দারিদ্র অনাহার লাঞ্ছিত বঞ্চিত

করছে আমায় স্বাধীন সমাজ,

অর্থ আর পাওয়ারের উপর বসে করছে আয়েশ

অন্নবস্ত্র শিক্ষা ছিনিয়ে নিয়ে

স্বাধীনতার জাতীয় পতাকা তোলে।


মাগো স্বাধীনতা মানে কি?

এখনো এক ঝাঁক পায়রা খাঁচায় বন্দি

শহীদের রক্ত এখনো মলিন হয়নি,

এখনো ল্যাম্পপোস্টের নিচে কিছু

আর্তনাদ ধিক্বার মারে আমি স্বাধীন নয় ....!

মূল্যায়নের বিশেষণ খাতায় বিচার করে দেখি

স্বাধীনতার পূর্ণ মানে এখনো আমরা পাইনি।


মাগো তোমার বুকে এখনো রক্ত নদী বয়ে চলে 

হাজারো যুবক প্রাণ বলি দেয় কারনে অকারনে,

তোমার মেয়ের পায়ে শিকল বেড়ি বাঁধা

তালাবদ্ধ ওই অন্ধকার ঘরে ...;

মাগো এটাই কি স্বাধীনতার পূর্ণ মানে।


ডাস্টবিন থেকে কুড়িয়ে আনি এক টুকরো রুটি

হাসপাতালে করছি আমরা লুটোপুটি,

রক্তে রাঙা স্বাধীন ভারত

তবুও আমরা অসুস্থ হলে রক্ত মেলেনা;

দারিদ্র অনাহার লাঞ্ছিত বঞ্চিত 

করছে 


এটাই কি স্বাধীনতা ?

-----------------------

স্বাধীনতা- ১৮

স্বাধীনতার মানে

আর্যতীর্থ


সকাল থেকে খুঁজে চলেছি স্বাধীনতার মানে 

যেটা আমার মেয়েরা জানে

আর যেটা জানেন আমার বাবা মা কাকা 

দুটোর মধ্যে  ফারাক থাকা

স্বাভাবিক সেটা আমিও জানি

কিন্তু এটা কিভাবে মানি

একই কথা অর্ধ শতাব্দীর ব্যবধানে 

অন্য রকম অর্থ বয়ে আনে?

আমার বাবার জন্ম স্বাধীনতার ঠিক আগে ওপার বাংলায়

দেশভাগে সব হারানো তার স্মৃতির পাতায় পাতায় 

হঠাৎ নেতাদের খেয়ালে বেমালুম গায়েব ভিটেমাটিটাই 

স্বাধীনতা মানে তাঁর কাছে সব হারিয়ে মাটি খোঁজার লড়াই 

তাঁর কাছে শুনেছি বিপ্লবী দের গল্প 

ছোটবেলার থেকেই তাই অল্পসল্প

জানি দেশের স্বাধীনতার ইতিহাস ।

অদৃষ্টের করুণ পরিহাস 

মেয়েদের কাছে এসব মহামানব শুধু স্টেশন পাতাল রেলে

বা শহরের কোনো এলেবেলে 

জায়গায়  কাকের বিষ্ঠা ময় মূর্তি 

স্বাধীনতা দিবস মানে তাদের কাছে ফূর্তি 

ছুটির দিনে , বড় জোর তেরঙ্গার ছবি ফেসবুকে

দেশভক্তির চিহ্ন কিছু পাই না খুঁজে  চোখে মুখে 

হঠাৎ সেদিন সবাই মিলে চোখ টিভিতে 

উত্তরটা পেয়ে গেলাম আচম্বিতে।

শাহরুখের খুব চেনা বই বলিয়ুডি মশলা দেওয়া 

বিলেতবাসী ছেলে হঠাৎ জাতীয় গীত ধরল গাওয়া 

মেয়েরা আমার সটান সোজা উঠে দাঁড়ায় সোফার  থেকে

গর্বিত বাপ আড়াল থেকে দেশপ্রেমের চিহ্ন দেখে ...

--------------------

স্বাধীনতা- ১৯

স্বাধীনতা 

 দীননাথ চক্রবর্তী 


কবর খোঁড়ে কিছু লোক 

নিক্তি সময় 

গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা 

বছর বছর 

ফি বছর 

আতস বাজি 

উৎসবে ।

মাতৃপূজা

তবু ,..


স্বাধীনতা কবর এখন 

বিস্মৃতি 

ঘুম পাড়ানি গল্প 

প্রতিবাদ 

শাশ্বত 

ভোরের সূর্য 

মা বোলতো।


হারিয়ে যাওয়া সেই গল্পটা 

বর্গী হানা

বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়ে 

ক্ষুধাতুর ক্ষুদিরাম

বৃদ্ধা বুড়ি 


আজ চারিদিকে কাঁটা তারের বেড়া

ঘরে দোরে 

মনে ভাবে 

বি এইচ কে

বেড়া দেবার জন্য বুকে বাঁধে বোমা 

যেন ঝুলন পূর্ণিমা 

আত্মবলিদান।


পাছে বেঘোরে .,.

ঘরের দরজা জানালা বন্ধ করে 

আমার স্বাধীনতা ।

------------

স্বাধীনতা- ২০

তবুও অপেক্ষায় আছি

স্বরূপ ভঞ্জ


এখনও তোমার প্রতীক্ষায়

                    পথ চেয়ে আছি স্বাধীনতা।

যেভাবে অনাহারী শিশু অপেক্ষায় থাকে

                                একপাত্র অন্নের,

অর্ধনগ্ন ভিখারি একটুকরো শীত-বস্ত্রের ,

কিম্বা ধর্ষিতা নারী একটা ন্যায় বিচারের

সেভাবে আমিও তোমার অপেক্ষায় আছি।


তবু তুমি পারদের স্পর্শকাতরতায় 

সমস্ত আকাঙ্ক্ষাগুলো উপেক্ষা করে যাও।


তাই বুঝি আজ‌ও 

                    রক্তাক্ত হয় সত্যের কন্ঠ ,

বাতাস ভারী হয় বারুদ গন্ধে,

কায়েমি স্বার্থ প্রতিষ্ঠা করে প্রবঞ্চক স্বৈরাচারী,

স্ট্যাচু অব লিবার্টির উঁচু মাথার ওপর

জমাট বাঁধে নিকষ কালো বিষবাষ্প,

মৃত্যুর কারবার করে পাপাত্মা প্রহরণধারী !


কবে তুমি আসবে স্বাধীনতা!

কবে তোমার ভিজবে মন!

শেষ রাতের বর্ষণের মতো সিক্ত করবে

জ্যৈষ্ঠের চাতক-তুল্য অপেক্ষারত

                          তৃষিত মানবাত্মাকে!

কবে আবার বিবশ, দিশাহীন, অবোধ মানব

জাগ্রত হবে নতুন চেতনায় ,

আলোক প্রতিভাসিত প্রভাতের মতো!


                                      কবে ... !

-----------------

স্বাধীনতা-২১

এ কেমন স্বাধীনতা

শান্তি দাস


স্বাধীনতা এসেছিল তবুও স্বাধীনতা কই, 

আমরা স্বাধীন দেশের নাগরিক মোরা স্বাধীন নই। 

আমরা স্বাধীন হয়েছি ইংরেজদের হাত থেকে, 

কিন্তু প্রকৃত স্বাধীনতা পেয়েছি কি! রয়েছি প্রাচীন যুগের যাঁতাকলে। 


ভগৎ সিং আর বাঘা যতীন প্রাণটা দিলো দেশের কাজে, 

তবুও মেয়েরা পেল না স্বাধীনতা রয়ে গেল শৃঙ্খলার বেড়াজালে। 

তবুও বলি আমরা আছি আমরা স্বাধীন, ভারতবর্ষ আমার দেশ, 

ভারত স্বাধীন একটি দেশ, নয়তো পর বশ। 


শত শত বীর যুদ্ধ করে শহীদ হয় ফাঁসির দড়িতে ঝুলে, 

তাই আমরা স্বাধীন হয়েছি, আজ তবুও কেন রক্ত ঝড়ে এই মুলে।

স্বাধীনতা যদি বাঁচার লড়াই কেন, কেন তবে খেতে না পেয়ে বিনা চিকিৎসায়, 

স্বাধীন বলে বেড়াই তবুও কেন স্বাধীন নাগরিকের প্রাণ যায়। 


ধুকছে বেকার দল ধুকছে শ্রমিক পাশাপাশি চাষীর দল, 

তবুও কেন কান্না চেপে সয়ে চলছে ছল। 

স্বাধীনতা এসেছে ধনীদের জন্য গরীব রিকশা ওয়ালাদের নয়, 

স্বাধীনতা আজ পরিহাস বেকার যুবক যুবতীরা হাঁসফাঁসে রয়। 


স্বাধীন মানেই তো অন্ন বস্ত্র বাসস্থান কর্মের অধিকার পায়, 

স্বাধীন দেশে থেকে ও কেন দেখি বেকারত্বের হাহাকার। 

আজ ও আছি আমরা সংস্কারে যতই বড়াই করি আর স্বপ্ন দেখি , 

কলঙ্কের নিশানা নিয়ে আমরা স্বাধীন ভারতবর্ষের বলতে থাকি।

------------

স্বাধীনতা- ২২

স্বাধীনতা স্বাধীনতা

অসীম দাস 


স্বাধীনতা নয় কুঁড়ি ঝরে পড়া পতাকার পতপত 

স্বাধীনতা মানে মানব বিমানে শান্তির পারাবত ।


স্বাধীনতা নয় বৎসরান্তে কবিতা লেখার ধুম 

স্বাধীনতা মানে সক্রেটিসের হেমলক দানে ঘুম !


স্বাধীনতা নয় কুচকাওয়াজ আর ভাষণের ঝনঝনা

স্বাধীনতা মানে অন্যায় হলে কিছুতেই মানব না ।


স্বাধীনতা নয় দলবদলের ঘোলা পথে লেনদেন 

স্বাধীনতা মানে সচল শিক্ষা সকলের হাতে পেন ।


স্বাধীনতা নয় পুনরাবৃত্তি সংখ্যা গুরুর জয় 

স্বাধীনতা মানে মুক্তমনার  বৃদ্ধিতে বরাভয়  ।


স্বাধীনতা নয় তোষণ দূষণে অভিমত চুপচাপ 

স্বাধীনতা মানে অশিক্ষা নয় , কুশিক্ষা অভিশাপ !


স্বাধীনতা নয় দেশের কিংবা জাতির মুক্তাকাশ 

স্বাধীনতা মানে বিশ্বমানব রবীন্দ্রনাথ শ্বাস ।

----------------------

স্বাধীনতা- ২৩

সত্যিই কি স্বাধীন

বন্দনা কুন্ডু


আঘাতগুলো চোরাস্রোত আর চোখের জলে ডুবসাঁতার...

কি জানি কবে অন্ত হবে ? মিলবে শহর রূপকথার!


জোনাকগুলো পথ চেনাবে,অন্ধকারেও নিয়ন আলো...

বল্ না কবে মন্দ ভুলে জগৎ হবে শুধুই ভালো ?


জাতপাত আর বিভেদগুলো নিছক ক'টা শব্দ হবে...

শুনবো কবে, 'মানবতা' ধর্ম-নামের সংজ্ঞা হবে ?


উপচে পড়া ধনের রাশি, দীন-দুখিনীর কান্না মুছে...

দেখবো কবে, শূন্য পাতে পূর্ণ হয়ে পৌঁছে গেছে ?


দেখে আমজনতার নোনা ঘামে ফুটে ওঠা দীর্ঘশ্বাস...

আর বলবো কবে, সিংহাসনের গা ঘেঁষে সব চোরের বাস ?


শিক্ষিতরা যোগ্য হয়ে পিষবে পায়ে দুর্নীতিকে...

বাঁচবে কবে মাথা তুলে, বেকার নামের তকমা থেকে ?


সন্মানেরা ভরসা পাবে, দিন হোক বা রাতের বেলায়...

জানবো কবে, এ দেশেতে ধর্ষকেরা বিলুপ্তপ্রায় ?


আসবে কবে সুদিন এমন? মনে হবে জীবন রঙিন...

সকল হৃদয় জানান দেবে, দেশটা মোদের সত্যিই স্বাধীন।।

---------------------

স্বাধীনতা-২৪

              স্বাধীনতা

           অরবিন্দ সরকার

        

স্বাধীনতা মানে দেশভাগ, স্বাধীনতা মানে শহীদদের বৃথা লড়াই, হাত পেতে ভিক্ষা চুক্তির স্বাধীনতা।

গনতন্ত্রের পরাজয়- সীতারামের পরাজয় মানেই গান্ধীর পরাজয়, নেতাজির দেশছাড়া কূটনীতির খেলা।

লড়াই ক'রে যুদ্ধ ক'রে রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা আসে! আর আমার দেশে বিলেতি  পরস্ত্রীর সঙ্গে মাখামাখিতে নেতা, স্বাধীনতা যোদ্ধা, দেশের কর্ণধার। কতো প্রাণের স্বাধীনতার নামে হলো বলিদান , তাঁরা আইনের চোখে  এখনও সন্ত্রাসবাদী। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বদলে দ্বিজাতি তত্ত্বে দেশ ভাগ, জাতিদাঙ্গা , রক্তপাতে দেহ বিনিময়! লাশ হ'য়ে আসে ও যায়। স্বাধীনতা কাঁদে পথে পথে এ নিয়ে নাই সংশয়।

রাতারাতি মাতামাতি- বিলেতি শত্রু মিত্র রূপে স্থান পায়। ভারতবাসী অসহায়, যে তিমিরে ছিল  আজও সেই তিমিরেই !তার চেয়েও বেশি আজ মানুষ করে হায় হায়। কাজী নজরুলের দেশাত্মবোধক উজ্জীবিত সঙ্গীত, নেতাজির দিল্লি চলো ধ্বনি, ক্ষুদিরামের আত্মত্যাগ,জালিওয়ানাবাগে নৃশংস হত্যার প্রতিবাদে রবিঠাকুরের নাইট উপাধি ত্যাগ, সব ধূলিসাৎ। মানুষ জানে স্বাধীনতা মানে প্রভাতফেরি ও একটি বিলেতি আবরণে মোড়া লজেঞ্চুষ। স্বাধীনতা মানে -নেতা মন্ত্রীদের ফুলে ফেঁপে ওঠে, প্রজারা তাদের নামে জয়গান গায়। ভিখারি বেশে, রুগ্ন শরীরে আজো গরীব রয়! তাঁরা  রাস্তায় ভিক্ষা চায়। সবার অট্টালিকা হলেও তাদের নাই ঠাঁই। আইনের অধিকার ধনীর, বিচারে গরীব পথ হাতড়ায়! বিলেতি কুত্তা আজও বেশভূষা আচরণে রয়েই গেল আর আপামর দেশি কুত্তা ক্যাউ ক্যাউ রবে মাথা খুঁড়ে খুঁড়ে পরাধীনতার ফাঁদে পড়েই রইলো। লালকেল্লা কেল্লাফতের মন্ত্র, শহীদ মিনারের মাথা নত, রাস্তার নাম, স্থান, বিলেতি কুকুরের নামে সংরক্ষিত। দেশীয় পোশাক আস্তাকুঁড়ে, বিলেতি পোষাকে সজ্জিত , বিলেতি হাবভাবে নেতা মন্ত্রী নিমজ্জিত।

স্বাধীনতা কেউ দেয়না, ছিনিয়ে নিতে হয়,বিশ্বে প্রতিভাত! আর আমাদের অনশন ও অহিংস পথে স্বাধীনতা রেখে ভূতেরা পালায় এটাই সত্য!!

----------------