Monday, January 14, 2019

সুমন্ত কুন্ডু



 অণুগল্প-
ময়নাদীঘির পাড়ে

ভোরের আলো ঠিক করে ফোটার আগেই গিরীশকে বেরিয়ে পড়তে হল জাল নিয়ে । আজ ময়নাদীঘিতে মাছ ধরতে যাবে । দীঘিটার কথা আগে শুনেছে অনেক কিন্তু যায়নি কখনও । দীঘিটা বেশ বড়, মাছও আছে ভালো,  কিন্তু কেউ তেমন যায় না । লোকে নানারকম কথা বলে, কিসব অপদেবতার বাস নাকি সেখানে । গিরীশ পাত্তা দেয়নি । মাছ ধরার জন্য কত যে আদাড়ে-বাদাড়ে ঘুরেছে তার ইয়ত্তা নেই । ওর সাথে সঙ্গী হিসাবে যেতে রাজি হয়েছে রতন । গিরীশেরই শাগরেদ । 
ভোরের অন্ধকারটা পুরোপুরি কেটে ওঠার আগেই গিরীশ পৌঁছে গেল ময়নাদীঘির দক্ষিণ পাড়ে, ওখানেই রতনেরও আসার কথা ।  এখনও আসেনি নাকি, খানিকক্ষণ ভাবল গিরীশ । দু একবার হাঁক পেড়ে দেখল, কেউ সাড়া দিল না । অন্ধকার এতো ঘন ভালো করে কিছু দেখাও যায় না ।
খানিকক্ষণ পর কুয়াশা কাটতে গিরীশ একটু এগিয়ে দেখল । পাড়ের সামনে একজোড়া চপ্পল রাখা । গিরীশ ভালো করে দেখল, এমন অদ্ভুত বেগুনী রঙের চপ্পল্টা নির্ঘাত রতনের । ‘ব্যাটা এতক্ষণ এসে গেছে তবু সাড়া নেই, কোথায় বসে নেশাভাং করছে কিনা কে জানে’ । জোরে জোরে হাঁকল বারকয়েক । এবারেও সাড়া পেল না ।
একটু আশ্চর্য হয়েই রতনের চপ্পল দুটো পায়ে গলিয়ে দিঘির দিকে নেমে গেল রতনকে খুঁজতে ।
সারাদিনের পড়ে অনেক রাতে বেগুনী রঙের চপ্পল দুটো পায়ে দিয়ে রতন বাড়ি ফিরল, গিরীশ ফিরল না ।

No comments:

Post a Comment